• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা ডিএসসিসির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠালেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দেবিদ্বারে বন্ধকী জুট মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, ২ ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৮ বিরলে হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাবি বিএনসিসির প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের অপর্ণা ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দেবিদ্বারে মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার….সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে একমাত্র নারী আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত: মাদক ও মানব পাচারের “নিরাপদ রুট”

আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : / ৪০৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত বর্তমানে মাদক ও মানব পাচারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সীমান্ত পথ ধরে ভারতে পাচার হচ্ছে, পাশাপাশি ভারত থেকেও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলাদেশে। বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালালেও, সীমান্ত এলাকায় পাচার কার্যক্রম থেমে নেই। নিয়মিতভাবেই ধরা পড়ছে মানুষ ও মাদক—তবুও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই।

বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একাধিক চক্র এই সীমান্ত ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—যদিও মাঝে মাঝে পাচারকারীরা ধরা পড়ে, কিন্তু মূল চক্রগুলো এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ১৫ মাসে—২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত—৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা মহেশপুর ও জীবননগর সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার মাদক জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। অধিকাংশ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় বলা হয়—সেগুলো ‘পরিত্যক্ত অবস্থায়’ পাওয়া গেছে। এতে করে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া, সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি কয়েক হাজার মানুষ অবৈধভাবে পারাপার হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও এই সীমান্তের পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিজিবি পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও নজরদারির দাবি করা হলেও, পাচারের প্রবাহ থামছে না কেন—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তাদের জিজ্ঞাসা, “যদি টহল ও নিরাপত্তা জোরদার থাকে, তবে প্রতিদিন এত মাদক ও মানুষ কীভাবে সীমান্ত পার হচ্ছে?”

এই প্রসঙ্গে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম পিএসসির মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও, তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও তিনি সাড়া দেননি।

এই পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ এবং জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/