• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত: মাদক ও মানব পাচারের “নিরাপদ রুট”

আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : / ৩৫৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত বর্তমানে মাদক ও মানব পাচারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সীমান্ত পথ ধরে ভারতে পাচার হচ্ছে, পাশাপাশি ভারত থেকেও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলাদেশে। বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালালেও, সীমান্ত এলাকায় পাচার কার্যক্রম থেমে নেই। নিয়মিতভাবেই ধরা পড়ছে মানুষ ও মাদক—তবুও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই।

বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একাধিক চক্র এই সীমান্ত ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—যদিও মাঝে মাঝে পাচারকারীরা ধরা পড়ে, কিন্তু মূল চক্রগুলো এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ১৫ মাসে—২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত—৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা মহেশপুর ও জীবননগর সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার মাদক জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। অধিকাংশ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় বলা হয়—সেগুলো ‘পরিত্যক্ত অবস্থায়’ পাওয়া গেছে। এতে করে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া, সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি কয়েক হাজার মানুষ অবৈধভাবে পারাপার হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও এই সীমান্তের পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিজিবি পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও নজরদারির দাবি করা হলেও, পাচারের প্রবাহ থামছে না কেন—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তাদের জিজ্ঞাসা, “যদি টহল ও নিরাপত্তা জোরদার থাকে, তবে প্রতিদিন এত মাদক ও মানুষ কীভাবে সীমান্ত পার হচ্ছে?”

এই প্রসঙ্গে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম পিএসসির মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও, তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও তিনি সাড়া দেননি।

এই পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ এবং জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/