• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মেসী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ফেনীতে বন্যার্তদের জন্য ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প

খান মোঃ আতিকুর রহমান / ২৭৪ Time View
Update : শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

খান মোঃ আতিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ফেনীর ফুলগাজী থানার মান্দারপুর, ফকিরেরখীল মান্দারপুর আবুল খায়ের মজুঃ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার্তদের চিকিৎসা সাহায্যে ফার্মেসী অ্যাল্যামনাই অ্যাসোসিয়েশন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (PAAKU) কর্তৃক আয়োজিত বন্যা পরবর্তী দুরবস্থা মোকাবেলায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর আয়োজন করা হয়। সাম্প্রতিক বন্যায় যেসব এলাকা প্রাথমিকভাবে এবং সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এটা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত ২১ আগস্ট ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর বাঁধ খুলে দেয়ার ফলে নেমে আসা ঢলে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ জেলার ৭৩ টি উপজেলা প্লাবিত হয়। পুরো দেশবাসীর মত ‘পাকু’ও এগিয়ে আসে এই ভয়ানক পরিস্থিতি মোকাবেলায়। এই সাহায্য পরিকল্পনাকে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয় (জরুরী ত্রাণ সরবরাহ, বন্যা পরবর্তী রোগ সংক্রমণ ঠেকাতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং পুনর্বাসন) তার মধ্যে গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর ফেনীর ফুলগাজীতে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনাটি ছিল দ্বিতীয় ধাপ। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে যোগাযোগ করে নির্ধারণ করা হয় কোন এলাকাটিতে সবথেকে বেশি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। সে সকল ডাক্তার এই ক্যাম্পিং অংশগ্রহণ করেন তাদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধের একটি তালিকা করে সেগুলো সংগ্রহ করে এলাকাবাসীর জন্য। এর মধ্যে ছিল জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, অ্যালার্জি ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক ও অয়েন্টমেন্ট। ছিল ব্যথানাশক, কৃমিনাশক, মাল্টিভিটামিনস ও মিনারেলস, সাথে সাথে পেটের পিড়া, গ্যাস্ট্রাইটিসের ওষুধ। এছাড়া খাবার স্যালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ। ওষুধ সামগ্রীর তালিকা করার সময় প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের কথা বিশেষভাবে মাথায় রাখা হয়।

৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টায় নির্ধারিত স্থানে পৌঁছায় পাকুর দশ জনের একটি মেডিকেল টিম এবং আনুমানিক বেলা ১ টা থেকে শুরু করে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং চিকিৎসা প্রদান। স্কুলের তিনটি কক্ষের একটিতে পুরুষ, আরেকটিতে নারী ও শিশুদের সেবার ব্যবস্থা করা হয়, এবং তৃতীয় কক্ষটিতে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিতরণ করা হয়। বন্যা পরবর্তী সময়ে যেসব রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় সেসব সহ সকল প্রকার সাধারণ রোগ সনাক্ত করেন ডাক্তাররা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নির্দেশনা সরবরাহ করেন। ডাক্তারগণ এবং পাকুর স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রায় ছয় ঘণ্টার অনবরত সেবা দেয় আগত প্রায় তিনশতাধিক রোগী ও সেবাপ্রার্থীদের। সন্ধ্যা সাতটায় শেষ হয় এ কার্যক্রম।

ফ্রী ক্যাম্পিং এ ডাক্তার হিসেবে সেবা প্রদান করেন ডা. সিয়াম সিদ্দিকী ফাহিম, ডা. গাজী সাজ্জাদ হোসেন, ডা. মোঃ হেদায়েতুল কবির এবং ডা. নুজহাত জামান সেমন্তী। মেডিকেল ক্যাম্পের পুরোটা সময় তাদের নিরলস সেবা এই সফল ক্যাম্পটি সম্পন্ন করতে বিরাট অবদান রেখেছে বলে জানাযায়। সাথে সাথে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন যাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য জনাব সাইদুর রহমান। তিনি এই দুর্যোগের শুরু থেকে স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং এই মেডিকেল ক্যাম্পের শুরু থেকে পুরোটা সময় পাকু মেডিকেল টিমকে তাদের কাজে সহায়তা করে গেছেন। স্থানীয় সকলের আন্তরিকতা ও অভ্যর্থনা অনুপ্রেরণা দেয়, সাবলীলভাবে এবং পরিকল্পনানুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে পুরো প্রচেষ্টাটি।

পাকু চায় বন্যা কবলিতদের সাহায্যে পরিকল্পিত তিনটি ধাপের প্রথম দুটি যেভাবে তারা সফলভাবে শেষ করেছে শেষ ধাপটিতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। বন্যায় আক্রান্ত কয়েকটি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে পাকু। সাথে সাথে আগামীর যে কোনো জাতীয় সমস্যা বা প্রয়োজনীয়তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ অবদান রেখে যেতে চায় ফার্মেসী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (PAAKU)।

তারা মনেকরেন এমন হাজার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং দেশের শত শত ছোটো থেকে বড় সংঘ ও সংগঠনের এভাবে এগিয়ে আসাটাই পারে এমন দুর্যোগ দ্রুত মোকাবেলা করতে। সবাই এগিয়ে আসুক, আমরা এগোলেই এগোবে দেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/