আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন: স্বপ্ন ছিল অনেক, সামনে ছিল জীবনের নতুন অধ্যায়। গতকালই প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ফলাফলও ছিল ভালো। পরিবার ও স্বজনদের মনে ছিল আনন্দ, প্রিয়জনদের চোখে ছিল তাকে ঘিরে নানা স্বপ্ন। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে এলো শোকের ছায়া। বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারালেন শ্রাবণ (২০) নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
নিহত শ্রাবণ ঝিনাইদহ পৌরসভার শামিমা ক্লিনিকের সামনে মাঝমাদার পাড়ার বাসিন্দা মো. সুমনের ছেলে। তিনি একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ভালো হওয়ায় তাঁকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের মনে ছিল অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা। এলাকাতেও তাঁর সুনাম ছিল বলে জানা গেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের গয়েশপুর এলাকায় মিজানুর রহমান মাসুম মিয়ার একটি ইটভাটার পুকুরে গোসল করতে যান শ্রাবণসহ তিন বন্ধু। গোসলের একপর্যায়ে শ্রাবণ পুকুরের পানিতে ডুব দিলে আর ভেসে ওঠেননি।
এ সময় সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু প্রথমে নিজেরাই পানিতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ খুঁজেও শ্রাবণের কোনো সন্ধান না পেয়ে তাঁরা চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন। তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশে কর্মরত ইটভাটার শ্রমিকেরাও ছুটে আসেন। পরে শ্রমিক ও দুই বন্ধু মিলে পুকুরের পানিতে তাঁকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে খবর দেওয়া হয় ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের গভীর পানির নিচ থেকে শ্রাবণের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পানি থেকে ওপরে তুলে আনার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
একটি সাধারণ দিনের মতোই হয়তো শুরু হয়েছিল শ্রাবণের দিনটি। বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, হাসি-আড্ডা আর গোসলের আনন্দ সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কে জানত, সেই সময়টুকুই হয়ে উঠবে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত! যে তরুণের সামনে পড়ে ছিল জীবনের দীর্ঘ পথ, যে তরুণকে ঘিরে পরিবারের ছিল অসংখ্য স্বপ্ন, সেই শ্রাবণই আর ফিরবেন না আপন ঘরে।
গতকাল যে সন্তানের ভালো ফলাফলে পরিবারে ছিল আনন্দের আবহ, আজ সেই সন্তানকে হারানোর বেদনায় পরিবারটির আকাশ যেন ভেঙে পড়েছে। যে ঘরে হয়তো ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা, সেই ঘরেই এখন বিরাজ করছে শোকের নীরবতা। স্বজনদের কাছে শ্রাবণ শুধু একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না; তিনি ছিলেন পরিবারের আশা, ভালোবাসা আর আগামীর স্বপ্নের একটি নাম।
শ্রাবণের এমন অকালমৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে থেমে গেল একটি তরুণ প্রাণের পথচলা, আর রেখে গেল পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য এক গভীর শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
https://slotbet.online/