সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য নাস্তা বিতরণ কার্যক্রম চালু হওয়ার পর বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত না, তাদের অনেকেই এখন প্রতিদিন স্কুলে উপস্থিত হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষগুলো আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, নাস্তা বিতরণ কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে অনেক শিশু খালি পেটে স্কুলে আসত অথবা না খেয়ে থাকার কারণে মাঝপথে বাড়ি ফিরে যেত। এখন বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর নাস্তা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকায় তারা সময়মতো স্কুলে আসছে এবং পুরো ক্লাসে অংশ নিচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক ফিরোজ রব্বানী জানান, শুধু উপস্থিতিই নয়, শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ, শ্রেণিকক্ষের অংশগ্রহণ এবং সহপাঠ্য কার্যক্রমে আগ্রহও আগের তুলনায় বেড়েছে। ক্ষুধামুক্ত অবস্থায় পাঠ গ্রহণ করায় তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হচ্ছে এবং শেখার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নয়ন হোসেন বলে, “আগে মাঝে মাঝে স্কুলে আসতাম। এখন নাস্তা পাওয়ায় প্রতিদিন আসার চেষ্টা করি।”
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার বলে, “আগে অনেক সময় না খেয়েই স্কুলে আসতাম। এখন স্কুলে নাস্তা পাই, তাই প্রতিদিন সময়মতো আসতে ভালো লাগে।”
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ ইমরান হোসেন বলে, “আমার অনেক বন্ধুও এখন নিয়মিত স্কুলে আসে। সবাই একসঙ্গে নাস্তা খেয়ে ক্লাস করি।”
অভিভাবক পুনিল দাস জানান, নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এই কর্মসূচি একটি বড় সহায়তা। এতে সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে তারা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেক পরিবারে সকালের খাবারের ব্যবস্থা সব সময় সম্ভব না হলেও বিদ্যালয়ের নাস্তা শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান মতে, বিদ্যালয়ভিত্তিক পুষ্টিকর নাস্তা কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এই কার্যক্রম নিয়মিত ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
https://slotbet.online/