• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিয়ে কটাক্ষ টিটিসির অধ্যক্ষের

এম এ মোমিন, ক্রাইম রিপোর্টার: / ৩৭৬ Time View
Update : সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

ঠাকুরগাও কারিগরি সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসির) বিরুদ্ধে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে জেলার সংবাদ কর্মীদের কটাক্ষ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন টিটিসির অধ্যক্ষ। আর এই সংবাদ কর্মীদের কটাক্ষ করে পোস্ট করায় ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সুশীল সমাজসহ জেলার সংবাদ কর্মীরা। এছাড়াও দুর্নীতির সাথে জড়িত টিটিসির প্রত্যেককে চাকরিচ্যুত করে অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার নামে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে টিটিসির বিরুদ্ধে। যার অনুসন্ধান দুদুকে চলমান রয়েছে। গত ২৯-শে মে পশিক্ষণ্থীদের লাইসেন্স দেয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঠাকুরগাঁও সমন্বিত কার্যালয় দুদক। তারই প্রেক্ষিতে মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন শিরোনাম সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর এমন সংবাদ প্রকাশের পর জেলা জুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক শামসুর রহমান ও খন্ডকালীন প্রশিক্ষক ফারুক হোসেন ও অটোমোটিভ ট্রেডের প্রধান সাদেকুল ইসলামে কে চাকরিচ্যুত করে অনিয়মের অপরাধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে কঠোর শাস্তি দাবি জানান নেটিজেনসহ প্রশিক্ষার্থীরা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, পতিত আওয়ামীলীগের সরকারের আমলে ঠাকুরগাঁও সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদান করেন শামছুর রহমান। ঠাকুরগাঁও ১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে যোগদান করায় ‌অনিয়মকে তিনি নিয়মে প্রণীত করেছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য খাতে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে, তার পরেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামছুর রহমান ও আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এমপির হস্তক্ষেপে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সব অনিয়ম ক্ষমা পেয়ে যায়। আর উল্টো বিপাকে পড়েন অনিয়মের প্রতিবাদ করা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আবারো অনিয়মের প্রতিবাদ হলেও এখনো তিনি আগের মতোই অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছেন। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দাবি জানান তারা।

তবে এরইমধ্যে দেখা গেছে, নিজের অনিয়ম ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বাঁচাতে সম্প্রতি, ঠাকুরগাঁও সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামছুর রহমান তার নিজস্ব ফেইসবুকে জেলার গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেন। যা গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবাদের ঝড় তোলে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্ধতনদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তিনি তার নিজস্ব ফেসবুকে লিখেন, সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ঠাকুরগাঁও টিটিসির কয়েকজনের প্ররোচনায় অর্থের লোভে, কয়েকজন হলুদ সাংবাদিক ফেইসবুক/অনলাইন পত্রিকায় সম্পূর্ণ মিথ্যে, বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও টিটিসির কয়েকজন চিহ্নিত ব্যাক্তির স্বার্থে আঘাত লাগায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য কয়েকজন হলুদ সাংবাদিক দিয়ে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করাচ্ছে। তাদের গ্রুপের একজনকে বিএমইটি কর্তৃক তদন্তের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে মানিকগঞ্জ টিটিসিতে কিছুদিন হলো বদলী করেছে। ড্রাইভিং কোর্সে প্রশিক্ষণাথীদের নিকট থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি আমার জানামতে সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং বানোয়াট। টিটিসি কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণ ব্যাতিত কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয় না। অতএব, ড্রাইভিং লাইসেন্স বাবদ টিটিসির পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে টাকা নেয়ার প্রশ্ন তোলা বা টিটিসি কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তক।

অথচ গেল কয়েক বছর ধরে লাইসেন্স বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছে ঘুষ হিসেবে ২৫০০ টাকা করে নিয়ে আসছে টিটিসি কর্তৃপক্ষ। এতে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভয়ে মুখ খুলেনি কেউ। তবে প্রতিবাদ স্বরুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) এক পোষ্টে মন্তব্য করেন টিটিসি’র দেলোয়ার হোসেন নামে ইলেকট্রনিক্স বিভাগের এক প্রশিক্ষক। এতে নড়ে চড়ে বসে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনেকে। খবরটি ছড়িয়ে পরে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতেও। তবে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো প্রশিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে গেল (১৭ মে) শোকজ করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামছুর রহমান।

এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিজেদের অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকতেই তারা সকলেই একত্রিত হয়ে আমাকে শোকজ করেছে। তবে আমি যা সত্য তাই বলেছি। দুদক তদন্ত করলেই সব বেড়িয়ে আসবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী জানান, ঠাকুরগাঁও সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি’র) ৭০ জন প্রশিক্ষণার্থী তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন এবং তাদের প্রত্যেকের কাছে ২৫০০ টাকা লাইসেন্স দেওয়া হবে মর্মে টিটিসি কর্তৃপক্ষ আদায় করে। এরইমধ্যে দুদকের কর্মকর্তারা তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমেছে।

পরবর্তীতে খোজ নিয়ে জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নামে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছে থেকে ৪ হাজার টাকা করে চাওয়া হয়। ভারি যানবাহনের জন্য ৩৫০০ ও হালকা যানের জন্য ২৫০০ টাকা নেয় দেশ-বিদেশের খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক ফারুক হোসেন। যারা টাকা দিয়েছে তারাই শুধু লাইসেন্স প্রাপ্তি পরীক্ষায় পাস করেছে। আর যারা দেয়নি তাদের অকৃতকার্য দেখনো হয়।
তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স দেয়া বাবদ প্রশিক্ষণার্থীর কাছে টাকা নিয়েছি টিটিসি কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগে দুদক কাজ করছে। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সংবাদ প্রচার ও দুদকের বক্তব্যের পর কৌশলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামছুর রহমান ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার নামে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি মর্মে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে একটি লিখিত নেন।

অন্যদিকে, কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করে জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ঘুষ না দিলে অকৃতকার্য করা হতো। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলে এটাও নিয়মিত দেন না কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ২/৩ লিটার তেল বরাদ্দ থাকলেও টিটিসি কর্তৃপক্ষের আমাদের জন্য আধা লিটার তেলও খরচ করে না। তারা প্রতিটি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছে যা দেখার কেউ নেই। এখানে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে হরিলুট চলে। আমরা মনে করি প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কিভাবে হয়েছে তা সঠিক তদন্ত প্রয়োজন। সরকারের ঊর্ধ্বতনরা সঠিক তদন্ত করলেই সব বেড়িয়ে আসবে। আর প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেছে তা সম্পূর্ণ সত্য।

এবিষয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি’র) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামছুর রহমানের সাথে একাধিকাবার যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে আর কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। সাংবাদিকদের কোন বক্তব্য দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/