• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা ডিএসসিসির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠালেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দেবিদ্বারে বন্ধকী জুট মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, ২ ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৮ বিরলে হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাবি বিএনসিসির প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের অপর্ণা ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দেবিদ্বারে মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার….সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে একমাত্র নারী আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মাস্ক পরেই বিশ্বজয় গিনেসে বাংলাদেশের সিফাত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৯৯ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস বুকে নাম তুলেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)। ১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন তিনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বীকৃতি আসে গত ২৮ এপ্রিল।

সিফাত আকন জানান, বছর চারেক আগে পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সিফাতের চোখে পড়ে। কৌতূহল থেকে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। জানতে পারেন, বাংলাদেশেও কারও কারও এ রকম রেকর্ড আছে। সিফাতও তাই পরিকল্পনা শুরু করেন। তখন ছিল করোনাকাল। তাই মাস্কসংক্রান্ত কিছু করার কথাই সবার আগে মাথায় এসেছিল। ঠিক করেন, মাস্ক পরে রেকর্ড গড়বেন।

সিফাত বলেন, এই রেকর্ডটা প্রথম করেছিল একজন ভারতীয়। তিনি সম্ভবত ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে করেছিলেন। তখনই আমি রেকর্ড ব্রেকের (ভাঙা) কথা চিন্তা করি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও কোথাও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাই নাই।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্পর্কে ধারণা পেতে ফেসবুক, ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেন। সেখানেও কোনো পূর্ণাঙ্গ ‘গাইডলাইন’ মেলেনি।
সিফাত জানান, যারা আগে রেকর্ড করেছেন, তাদের ই-মেইলে বার্তা পাঠিয়ে প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। তবে ই–মেইলেও যথাযথ সাড়া পাননি। মূল সমস্যাটা হলো ইনফরমেশন। গাইডলাইনটা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আর প্রসেসটা (প্রক্রিয়া) অনেক লম্বা। সবসহ প্রায় ৯ মাস লাগে।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর লম্বা ছুটিতে আটঘাট বেঁধে শুরু হয় অনুশীলন। শুরুর দিকে ২৫-২৬ সেকেন্ড লেগে যেত। কারণ, চ্যালেঞ্জ মূলত দুটি। প্রথমত, চোখ বাঁধা থাকার কারণে মাস্ক হাতে তুলে নিতে সময় লেগে যায়। দ্বিতীয়ত, মাস্কটি ঠিকভাবে পরাও কঠিন। অনুশীলনের সময় মা, ছোট ভাই আর বন্ধু ইমনের উৎসাহ পেয়েছেন সিফাত।

১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিসহ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করেন এই তরুণ। তিন মাস পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলে রেকর্ডকে স্বীকৃতি দেয় গিনেস। খবর শুনে সিফাতের চেয়েও বেশি খুশি হয়েছিলেন তার মা।

সিফাতের উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়তে চান। সিফাতের বাবা আবদুল জলিল বনরক্ষীর চাকরি করেন। মা বেগম সুরমা গৃহিণী। সামনে সিফাতের আরও রেকর্ড গড়ার ইচ্ছা। এক মিনিটে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে জড়িয়ে ধরার রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন তিনি। করতে চান এক মিনিটে সর্বোচ্চ ‘হ্যান্ডশেক’-এর রেকর্ডও।

সিফাতের বাবা জলিল আকন জানান, তার ছেলের সাফল্যে খুশি। গর্বের বিষয় ১০ সেকেন্ডের দশটি সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান করে যে রেকর্ড গড়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে এই প্রত্যাশা করেন।

ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন, সিফাত আমাদের এলাকারই সন্তান। অনেক অধ্যাবস্যায় করার ফলে তিনি ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। এটি আমাদের এলাকার গর্ব। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারে এটাই প্রত্যাশা করি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/