• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা ডিএসসিসির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠালেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দেবিদ্বারে বন্ধকী জুট মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, ২ ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৮ বিরলে হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাবি বিএনসিসির প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের অপর্ণা ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দেবিদ্বারে মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার….সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে একমাত্র নারী আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুড়িগ্রাম উলিপুরে পুত্রবধূর আঘাতে আহত শশুর

রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / ১৫০ Time View
Update : রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫

পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরের মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বউ সেফা বেগমের (২৫) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ৯৯৯ লাইনে কল করে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে শশুরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসেন।

শনিবার (০৫ এপ্রিল) রাত ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত আক্তার আলী (৬০) বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ দরিচর গ্রাম এলাকায়।

আহত আক্তার আলী বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার পু্ত্র সবুজ ও আমার পুত্রবধু শেফা ঢাকায় থাকে। সবুজ যেন আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ না রাখে, আমাদের ভরনপোষণ না করে সেই জন্য পুত্রবধূ শেফা সবুজের উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই দন্দ লেগেই থাকতো,শনিবার আমার ছেলে সবুজের সাথে সিফার সন্ধ্যা ৭:০৫ মি: দন্দ শুরু হয়। আমি বাধা দিতে গেলে পুত্র বধু সিফা আমাকে পিছন থেকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে, আমার মাথা ফেটে গিয়ে আমি মাটিতে পরে যাই তখন আবার লাঠি দিয়ে আঘাত করে তা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে আমার মুখে লাগে আমার মুখ ফেটে যায়।

খবর পেয়ে আমার মেয়ে শিউলি ও জামাতা চানমিয়া এসে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। শিউলি বলেন বিয়ের পর থেকে সিফা আমার বাবা মাকে দেখতে পারে না, আমার ভাই বাবামাকে কোন কিছু দিলেই দন্দ বাজে। জামাতা চানমিয়া বলেন, আমি তেমন কিছু জানিনা, খবর পেয়ে আমি আমার স্ত্রী সহ আসি, দন্দ মেটাতে গিয়ে আমারও মাথায় পিছন থেকে আঘাত করে, মাথা ফেটে যায়। পিছন থেকে কে আঘাত করেছে আমি জানি না। আমি আহত অবস্থায় আমার শশুর (আকতার) কে নিয়ে উলিপুর হাসপাতালে আসি।
তাদের এই অভিযোগ পুরো অস্বীকার করে সবুজের স্ত্রী সিফা বলেন, সবুজের সাথে আমার বিয়ের ৫/৬ বছর হয়। আমার মা শারীরিক প্রতিবন্ধী। দেখাশোনার সুবিধার্থে বাড়ির কাছেই বিয়ে দেয়, যাতে আমার দেখাশোনা ও খেয়াল রাখতে পারে। আমাদের তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় আমাদের সংসারের উন্নয়নের জন্য আমার মা ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দেয়। সবুজ সেগুলো সব নষ্ট করেছে। আমার উপর সবসময় নির্যাতন করতো। অনেক কষ্টে আমি সংসার করে আসছি। সংসার একটু সচ্ছল করতে আমি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করছি, তবুও আমার উপর নির্যাতন করে। আজকে ঢাকায় যাবার কথা, এই নিয়ে আমার সাথে ক্যাচাল শুরু করেছে। আজ সন্ধ্যায় আমার স্বামী সবুজ, শশুর আকতার, ভাগিনা নাহিদ ও তার সংগীয় ক্যাডার বাহিনী দ্বারা আমার ও আমার পরিবারের লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সহ চড়াও হয়। আমার খালার ডানহাতে ছুরি দ্বারা আঘাত করে, খালার হাত কেটে যায়, রক্তপাত শুরু হয়। ভাগিনা নাহিদ আমার চুল ধরে মারপিট শুরু করে, চেন দ্বারা হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। আমাকে নিয়ে সংসার করবেনা বলে হুমকি দেয় সবুজ ।
সিফার মা কল্পনা বলেন, আমার জামাতা সবুজ আমাকে মারধর করেছে, দেখেন আমার হাতে পায়ে আঘাতের চিহ্ন, চেন দিয়ে মেরেছে। সিফা বলেন আমার স্বামী সবুজের আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল, তার এরকম আচরণের কারণে সেই সংসার ভেঙে গেছে।
সরেজমিন তদন্ত করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, সবুজের আগে একটা বিয়ে হয়েছিল ঠিক, কিন্তু তার আগে থেকেই সিফার সাথে সবুজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের তিন মাসের মধ্যে সেই সংসারে বিচ্ছেদ ঘটে এবং সবুজ সিফাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে সবুজ সিফাকে নিয়ে ঢাকায় থাকে, গার্মেন্টসে চাকরি করে। সিফা সবুজের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। ঢাকাতেও তিনবার সবুজকে মেরেছে। আজ ঢাকা যাবার সময় সিফার বাবার রিক্সায় বাস কাউন্টারে যাবার কথা। রিক্সায় উঠার সময় সিফার বাবা সবুজের সাথে খারাপ আচরণ করে, আয়- ব্যায়ের হিসাব চায়, তার কাছে টাকা জমা রাখতে বলে, নাহলে মেয়ের সংসার করাবে না বলে হুমকি দেয়, শুরু হয় উভয় পরিবারের দন্দ।

বিষয়টি নিয়ে ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার আঃ রাজ্জাক বলেন, আমি তাদের চিনি, আজকের মারামারি বিষয়ে জানিনা। খোঁজ নিয়ে দেখবো।

এদিকে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জিল্লুর রহমান বলেন ৯৯৯ নাইনের ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। উভয় পক্ষকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/