সুমন আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মালাই বাঙ্গরা বাজারে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। গত সোমবার (৬ জুলাই) নবীনগর কোম্পানীগঞ্জ সড়কের জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজার এলাকায় দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে সড়কের দুই পাশে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মানস চন্দ্র দাস। এ সময় সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এর আগে একাধিকবার নোটিশ প্রদান ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে দখলদারদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। তাই আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে অভিযানকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, সওজের নজর যেন শুধু মালাই বাঙ্গরা বাজারেই। নবীনগরের আরও বিভিন্ন এলাকায় সড়কসংলগ্ন সরকারি জমিতে স্থাপনা থাকলেও সেখানে একই ধরনের অভিযান খুব একটা দেখা যায় না। ফলে বারবার বাঙ্গরা বাজারের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বহু বছর ধরে এই বাজারে ব্যবসা করে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানে অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাদের প্রশ্ন, উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে একই বাজারে বারবার অভিযান পরিচালনা কতটা যৌক্তিক?
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই একই স্থানে সওজের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ অভিযানের পর আবারও স্থানীয়দের মধ্যে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, উচ্ছেদ অভিযান কি শুধু মালাই বাঙ্গরা বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নবীনগরের অন্যান্য সড়কসংলগ্ন অবৈধ দখলের বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
তবে ব্যবসায়ীদের এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
https://slotbet.online/