ঠাকুরগাঁও: দীর্ঘ ১১ বছরের আইনি লড়াই শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি মো. আব্দুল মমিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য আসামি মো. এরশাদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত তার রায়ে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। জরিমানার পুরো ২ লাখ টাকা ভুক্তভোগী কিশোরীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৬ ধারা মোতাবেক দণ্ডিত মমিনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমান সম্পদে অর্থ সংস্থান না হলে আসামির ভবিষ্যতের অর্জিত সম্পত্তি থেকেও তা আদায়ের পথ খোলা রাখা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিপূরণের দাবিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ি (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ভাংবাড়ি গ্রামে ১৪ বছর বয়সী ওই বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ঘরে একা রেখে তার মা পাশের বাড়িতে যান। রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি মমিনকে তার মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতে দেখেন। বাধা দিতে গেলে মমিন তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী মহলে বিচারের দাবি জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর পরিবার।
পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, মেডিকেল রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন আদালত।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, “১১ বছর পর হলেও ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। বিশেষ করে আসামির সম্পত্তি নিলাম করে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে আদেশ আদালত দিয়েছেন, তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের ক্ষেত্রে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
https://slotbet.online/