কুমিল্লার দেবিদ্বারে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম সরকার (৫০) নামের এক জমি ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জহিরুল ইসলাম মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকায় বসবাস করে জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার বিকেলে বালিবাড়ী গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুল ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে সমাধান না হওয়ায় পরে তাকে বালিবাড়ী গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মরদেহ নিয়ে আসা তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার জানান, বিকেলে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হন। রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। তিনি দাবি করেন, পাওনা টাকার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
স্থানীয়রা জানান, নিহত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল ও জমি কেনাবেচায় প্রতারণার অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় এক নাগরিক সমাবেশেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
https://slotbet.online/