ঝিনাইদহ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছে শ্রমিকদের একাংশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ‘সাধারণ শ্রমিকদের’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় শ্রমিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিক নেতা আমির ফয়সাল মহব্বত।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, আগামী ২৫ এপ্রিল সংগঠনটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই নানা অনিয়ম করা হচ্ছে। প্রার্থীরা একটি পদের জন্য মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও তা কাটা-ছেড়া করে অন্য পদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে কিছু শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে। এমনকি নির্বাচন হলেও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আগে থেকেই পছন্দের প্রার্থীদের নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে আমির ফয়সাল মহব্বত অভিযোগ করে বলেন, “আমি কার্যকরী সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনে ১৬ হাজার ৪০০ টাকা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আমার পদ পরিবর্তন করে সহ-সভাপতি পদে জমা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
এ সময় হানিফ খাঁন নামের এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, “আমি যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র কিনে নির্ধারিত অর্থ জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমার পদ পরিবর্তন করে সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। চারটি পদে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার জন্যই এই অনিয়ম করা হচ্ছে।”
শ্রমিকরা এসব অভিযোগ তুলে ধরে বর্তমান তফসিল বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী নির্বাচন কমিশনার রোকনুজ্জামান রানু বলেন, কিছু শ্রমিক যে অভিযোগ তুলেছেন, তার কোনো সত্যতা নেই। তিনি দাবি করেন, প্রার্থীরা নিজেরাই স্বাক্ষর করে নিজ নিজ পদে ফরম সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া তিনি জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরে যাওয়ায় কয়েকটি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হচ্ছে। বাকি পদগুলোতে যথাযথ নিয়ম মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।
https://slotbet.online/