• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

২০২৬-এর গণভোট: রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সন্ধিক্ষণ

​মোঃ রাজিব হোসেন / ৩৫০ Time View
Update : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬

​বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ‘গণভোট’। রাষ্ট্রের কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন এবং ‘নতুন বাংলাদেশের’ রূপরেখা নির্ধারণে এই গণভোট কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনআকাঙ্ক্ষার এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি জোরালো হয়েছে, তার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি হতে যাচ্ছে এই গণভোট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যে নতুন দর্শন হাজির করা হয়েছে, জনগণ সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে, রাষ্ট্রের মালিকানা কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে নয়, বরং সাধারণ মানুষের হাতে ন্যস্ত।
​ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও ভারসাম্য
প্রস্তাবিত সংস্কারের অন্যতম মূল বিষয় হলো ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ যেভাবে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে, তা নিরসনে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের মাধ্যমে আইন প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এই গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (দুই টার্ম) নির্ধারণের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত, যা ভবিষ্যতে একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
​নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান
দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা। ২০২৬-এর এই গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনকালীন একটি স্থায়ী নিরপেক্ষ তদারকি ব্যবস্থার সাংবিধানিক গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব হবে। ভোটাররা যদি এই প্রস্তাবে তাদের সমর্থন জানান, তবে ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে যে কোনো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সহিংসতা চিরতরে বন্ধ হওয়ার পথ সুগম হবে।
গণভোটের মাধ্যমে তৃণমূলের সাধারণ নাগরিকের সরাসরি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একজন ভোটার কেবল তার পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দেবেন না, বরং তিনি কোন ধরনের রাষ্ট্রে বাস করতে চান—সেই নীতির স্বপক্ষেও ভোট দেবেন। এটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি এই গণভোটের মাধ্যমে একটি সুসংহত রূপ পাবে।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই গণভোট সফল করা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। বিশেষ করে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের কাজ হলো এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর গুরুত্ব জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। ১২ ফেব্রুয়ারির এই দ্বৈত নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কি আগামীর বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রের পথে এগোবে, নাকি পুরনো রাজনৈতিক আবর্তে আটকা পড়বে। জাতি আশা করে, এই ভোটের মাধ্যমেই সূচিত হবে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/