বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের মোরেলগঞ্জ অংশে খরস্রোতা পানগুছি নদীতে সেতু না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ছোট ট্রলারে পারাপার হচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেলের অংশ এই নদীতে একটি মাত্র সেতুর অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
প্রতিদিন মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে এই নদী পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে সেতু নির্মাণের দাবি উঠলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রলার মালিকদের উদাসীনতা ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ১০ বছরে এই নদীতে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ ৮০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে, যেখানে ১৯ জন যাত্রী নিহত হয়।।
ভুক্তভোগীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় নদী পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ছোট ট্রলারগুলো ঢেউয়ের তোড়ে টালমাটাল করে, যা দেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, জনগুরুত্বপূর্ণ পানগুছি সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২১ সালের একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এখনো দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, অর্থ বরাদ্দের ছাড়পত্র পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হোক।
https://slotbet.online/