• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

আমরা খুনের ছাত্ররাজনীতি চাই না : শিবির সভাপতি

Reporter Name / ১৭৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

বাংলার দূত প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির খুনের ছাত্ররাজনীতি চায় না বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘যে ছাত্র রাজনীতির কারণে মানুষ খুন হতে হয়, মায়ের-ভাইয়ের-বোনের বুক খালি হয়; সেই ছাত্র রাজনীতি আমরা চাই না। বরং যে ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে মেধার চর্চা, সেবামূলক প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক সচেতনতা, গঠনমূলক রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে, আমরা সেই ছাত্র রাজনীতি চাই।’’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘কুয়েটে সেই ছাত্র রাজনীতিকে লালকার্ড দেখানো হয়েছে, যে ছাত্র রাজনীতি বুয়েটের আবরারকে হত্যা করেছে।’’ বিগত ১৫ বছরে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগ যে কালচার শুরু করেছিল তা থেকে বের হয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনৈতিক চর্চা করতে হবে উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলেন, ‘‘ছাত্রশিবির সেই কাজটিই করছে।’’

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ সব কথা বলেন।

ছাত্রশিবির খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত সায়েন্স ফেস্ট পরিদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাহিদুল ইসলাম খুলনায় আসেন। খুলনা সফরকালে তিনি জুলাই আন্দোলনে আহতদের এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। খুলনা সফরের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মঙ্গলবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উদ্ভুত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে তিনি তা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন।

ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘‘কুয়েটের ঘটনাটি একেবারেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের। এর সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই। যারা এটিকে শিবিরের সঙ্গে মেলাতে চাচ্ছেন তাদের হীনউদ্দেশ্য রয়েছে। বরং যারাই ‘শিবিরের ওপর দায় চাপিয়ে দাও’ রাজনীতি করেন, এটি তাদেরই অপপ্রচার।’’

‘ছাত্রদলকে আমরা বন্ধুপ্রতীম সংগঠন মনে করি’— উল্লেখ করে ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘‘আসুন দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করে কার কতটুকু অর্জন তা জাতির সামনে তুলে ধরি। জাতি যদি আপনাদের গ্রহণ করে, তাহলে আমরা সাধুবাদ জানাবো। আর যদি আমাদের গ্রহণ করে তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে পরবর্তী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো।’’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে তথা ছদ্মনামে ছাত্রশিবির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বলে ছাত্রদলের যে অভিযোগ সেই প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময়তো এমন প্রশ্ন কেউ করেননি। তাহলে এখন কেন?’’

‘ছাত্রশিবির একটি গুপ্ত সংগঠন’ বলে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন থেকে যে মন্তব্য করা হয়, সেই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৩২টি শাখার প্রতিটিতেই প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে সেটআপ সম্পন্ন হয়।’’ পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘ওই ১৫ বছরে ছাত্রদলের কোনো কমিটি যথাসময়ে হয়েছে কি-না, বরং আমরা দেখেছি বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গ্রুপিং-লবিং হয়েছে। সুতরাং যারা নিজেদের সংগঠনকেই ঠিকমতো চালাতে পারে না, তাদের মুখে অন্য সংগঠন নিয়ে এমন মন্তব্য কেবলই হাস্যকর।’’

তিনি বলেন, ‘‘শিবির আগেও যেমন তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে, তেমনি ৫ আগস্টের সরকার পতনের পরও আহতদের পাশে যাওয়া, শহীদ পরিবারের পাশে থাকা, ক্যাম্পাসে মেধার চর্চা করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।’’ তার খুলনা সফরও বিজ্ঞানভিত্তিক ক্যাম্পাস গড়ার অংশ এবং মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও খুলনা মহানগর সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন। এতে অন্যান্যের মধ্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক মু. নোমান হোসেন নয়ন, মহানগরী সেক্রেটারি রাকিব হাসান, সাহিত্য সম্পাদক বেলাল হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক আব্দুর রশিদ, সরকারি আযম খান কমার্স কলেজের সভাপতি তারেক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলার দূত/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/