• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

ডিবি হারুন কর্তৃক নির্যাতনের শিকার শ্রীপুর পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারী

আশরাফুল আলম সরকার / ১৬৮ Time View
Update : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৪

আশরাফুল আলম সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি

সাত বছর আগে গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন জুয়েলারি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বেপারি। সেই কথা মনে পড়লে এখনও শিউরে ওঠেন তিনি। শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যায় শীতল বাতাস। ভেতরে অস্থিরতা পেয়ে বসে, হাউমাউ করে কেঁদেও মেলে না স্বস্তি।

বৃহস্পতিবার দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বিল্লাল হোসেন বেপারী জানান, অনেক চেষ্টা করেও তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুনের নির্যাতনের কথা ভুলতে পারছেন না। আঙুল দেখলে, অমাবস্যায় যন্ত্রণা শুরু হলে, সেই বিভীষিকা পেয়ে বসে। স্বাভাবিক থাকতে পারেন না।

বিল্লাল হোসেন বেপারী ভাষ্যে, শুধু টাকার লোভে হারুন তাঁর ওপর নিষ্ঠুর হলো। নির্দেশ দিয়ে ডিবি সদস্যদের মাধ্যমে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চার আঙুলের নখ উপড়ে ফেলে। থেঁতলে দেওয়া আঙুলের ভেতরে সুই ঢুকিয়ে ও প্লাস দিয়ে তুলে ফেলে দাঁত। পায়ের পাতায় রডথেরাপি দেয়। বাঁচাতে স্বজন দেড় কোটি টাকা দিলেও রেহাই মেলেনি।
বিল্লাল হোসেন বেপারী গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া চন্নাপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলী বেপারির ছেলে। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। এ কারণেই ২০১৭ সালের ২৮ মে দুপুরে বিল্লাল হোসেন বেপারী চন্নাপাড়ার ডুপ্লেক্স বাড়িতে পিস্তল হাতে ঢোকে সাদা পোশাকের কয়েকজন। কর্মকর্তা ডেরিক কুইয়ার নেতৃত্বে ডিবি সদস্যরা তল্লাশির নামে বাড়ি তছনছ করে। প্রতিবাদ করলে স্ত্রী-সন্তানদের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে জানায়, তুই কি জানিস, গাজীপুরের বাপ এসপি হারুন! তিনি তোকে নিয়ে যেতে বলেছেন।

বিল্লাল হোসেন বেপারী জানান, খবর পেয়ে বাড়ির সামনে শত শত মানুষ জড়ো হলেও তোয়াক্কা করেনি। গাড়িতে তুলে মাওনা চৌরাস্তা পার হতেই চোখ বেঁধে ফেলে জানতে চায়– আমি হেফাজতের সমাবেশে কত টাকা খরচ করেছি? না বলা মাত্র ডান হাতের মধ্যমার নখ তুলে ফেলে। টের পাচ্ছি রক্তে জামা ভিজে যাচ্ছে। তখন থেঁতলে
দেওয়া আঙুলে সুই ঢুকালে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফেরার পর পায়ে রড দিয়ে বেদম পেটায়। তখনও চোখ বাঁধা ছিল। পরিবারের কথা মনে পড়ছিল। আল্লাহ, তোমার জাহান্নামের শাস্তি তাহলে কতটা ভয়াবহ– এই বলে সান্ত্বনা খুঁজছিলাম।
তিনি বলেন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও গাড়িতে তুলে দুই পায়ের পাতায় পেটায়। দুই হাতের আরও তিন আঙুলের নখ তুলে ফেলে। এভাবে ১৮ ঘণ্টা নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে ৫ কোটি টাকা দাবি করে এবং এক স্বজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়। এ সময় তাদের শেখানো কথা বলি, ‘আমাকে বাঁচাও, ৫ কোটি টাকার ব্যবস্থা করো।’

বিল্লাল হোসেন বেপারি বলেন, ‘এ পর্যায়ে চোখ খুলে দিলে বুঝতে পারলাম রাত ৩টার মতো বাজে। এবার আমাকে গাজীপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়ে মসজিদের ইমামকে ঘুম থেকে তোলা হলো। তওবা পড়াতে বললেও আমার শরীর অপবিত্র দেখে তিনি রাজি হলেন না। সেখান থেকে গাড়িতে তুলে একটি বনে নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় দৌড় দিতে বলে। আমি তাদের বলি, দৌড় দেব না। দাঁড়িয়ে আছে, এভাবেই
আমার বুকে গুলি করেন। এ সময় কল আসে ওই ডিবি কর্মকর্তার ফোনে। পরে তারা ফের গাড়িতে তুলে ছোটে।’
তিনি বলেন, পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা ৫০ লাখ টাকা জোগাড় করে ডিবি অফিসে এক কর্মকর্তাকে দেন। ছেড়ে দিতে চাইলেও কয়েক মিনিট পর পুরোনো জঙ্গি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে দু’দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে ডিবির আয়নাঘরে আমার সামনে আরেক ব্যক্তিকে বেদম মারধর করা দেখে আমি ভড়কে যাই এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। তারা সুযোগ দিলে পরিবারকে বলি, আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচাও। যা সম্পত্তি আছে, সব বিক্রি করে হলেও টাকা দেও। রমজান মাস চলছিল। রোজা অবস্থায় নির্যাতনের পর আমাকে এসপি হারুনের সামনে হাজির করা হয়। তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিল, হেফাজতের সমাবেশে কত টাকা ঢেলেছি? না-সূচক জবাব দিলে ভয় দেখিয়ে তিনি বলেন, আমার অফিসাররা যা বলে তাই কর। পরে স্বজনরা দুই দফায় ডিবিকে আরও ৮০ লাখ টাকা দেয়। রিমান্ডে অবশ্য কোনো নির্যাতন করেনি। পরে ৪১ দিন জেলে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হই।
বিল্লাল হোসেন বেপারী বলেন, বিএনপি করার কারণে হারুন আমার মতো অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন করেছে। আমি তার মুখোমুখি হয়ে বলতে চাই– কোথায় গেল তোমার টাকা? নির্যাতন আল্লাহ দেখেছেন। তিনি সর্বদা ন্যায়বিচারক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/