২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতার লাগাম ছুটে যাওয়ার পর থেকেই কঠিন দুই দশক পার করেছে রাজনীতির মাঠের শক্ত মিত্র বিএনপি-জামায়াত। শত চেষ্টায় বিপদ কাটাতে না পারলেও এবার আকস্মিক এক গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে দীর্ঘদিনের দুই মিত্রকে ক্ষমতার কাছাকাছি এনে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরপর থেকে বেশ ফুরফুরে সময় কাটাচ্ছে বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপি ও জামায়াত।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র ৪দিন আগে তার রাজনীতির প্রধান নিশানা জামায়াত ইসলামীকে নির্বাহী আদেশে ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন। তবে সরকার বিরোধী তীব্র আন্দোলন চলতে থাকলেও জামায়াতও রাজপথে সক্রিয় হয়। গত ৫ আগস্ট তার পতনের দিন দুপুরের পর থেকে বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার সর্বত্র আনন্দ মিছিল বের করে বিএনপি-জামায়াত। উভয়দলের যৌথ মিছিলে হাজারো মানুষ অংশ নেয়। দু’দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি আওয়ামীলীগ বিরোধী সাধারণ মানুষও মিছিলে উপস্থিত হয়।
এদিকে অভ্যুত্থান পরবর্তী অরাজকতা ও প্রতিশোধমূলক আক্রমণের ভয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় সব নেতাই গেছেন আত্মগোপনে। অপরদিকে ৫ আগস্ট থেকে বিয়ানীবাজারের সর্বত্র মিছিল-সভা, জনসংযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে বিএনপি-জামায়াত। তারা পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে দেখা করে অভয় দেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে প্রকাশ্য সভা আহবান করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতেও কাজ করছেন বিএনপি-জামায়াতের দায়িত্বশীলরা। তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে এক ধরনের গতি ফিরে এসেছে। বিনা বাধায় তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্ভিগ্নে চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে ওয়ার্ডে, শহর থেকে ক্যাম্পাসে।
এসব কিছু ছাড়িয়ে গেছে সোমবার বিকেলে। আসরের নামাজের পর হঠাৎ পৌরশহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লবের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করেন তার অনুসারীরা। কিছুক্ষণ পরই পাল্টা মিছিল বের ইসলামী ছাত্র শিবির। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আহবাব হোসেন মুরাদ। বাদ মাগরিব পৃথক মিছিল বের করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। এতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কবির আহমদ, উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমদ প্রমুখ।
https://slotbet.online/