নারায়ণগঞ্জ, ১০ অক্টোবর ২০২৬: ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিচার বিভাগের উদ্যোগে আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডেঙ্গু মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মো. আবু শামীম আজাদ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কে. এম. মহিউদ্দিনসহ বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
সরকারের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনার আলোকে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নির্মূল করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং আদালতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় জমে থাকা পানি ও মশার প্রজননের উপযোগী স্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিত্যক্ত ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মসূচি চলাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ি’-এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
লিফলেটে উল্লেখ করা হয়, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কনটেইনার ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব পাত্র ও সামগ্রী নিয়মিত পরিষ্কার করা, অপ্রয়োজনীয় বস্তু অপসারণ করা এবং বাড়ি, ছাদ, বারান্দা, বেজমেন্ট, সিঁড়ি ও আশপাশের কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি অপসারণ, বর্ষাকালে ছাদ ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিফলেটে মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী
ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের চলমান কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার ও সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশনায় বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও অপসারণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল, বাসস্থান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সাময়িক অভিযান নয়, বরং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিচার বিভাগের এ উদ্যোগে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা বহন করে।
https://slotbet.online/