এম এ মোমিন, ক্রাইম রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় আদালতের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিদের করা রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় তদন্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে লিখিতভাবে আদালতকে জানানো হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
লিখিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি (মামলা নম্বর-০৩/২০২৩) ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় দায়ের করা হয়। তদন্ত চলাকালে শহীদুল ইসলাম মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর-৩১০/২০২৪) দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে মামলার সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত স্থগিত রাখা হয়। শহিদুল ইসলাম বর্তমানে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর একই আইনে দ্বিতীয় মামলাটি (মামলা নম্বর-০৬/২০২৪) দায়ের করা হয়। তিনিও মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর-১৫০৫৮/২০২৪) দায়ের করলে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমও থমকে যায়।
লিখিত ব্যাখ্যায় তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে দুদকের প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নিতে চলতি বছরের ৩১ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন) বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্টে রিটগুলোর নিষ্পত্তি ও কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,”আসামিপক্ষের রিটের কারণে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়া মাত্রই দুদকের অনুমোদন নিয়ে দ্রুত আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।”
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এম সফিউজ্জামান সুমন জানান, মামলা দুটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) আদালতে জমা হলেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের তথ্য আগেভাগে ফাঁস করে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কম দামে জমি কিনে রাখতেন শহিদুল। পরবর্তীতে তা সরকারের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া টিসিবির পণ্য বিতরণ ও ডিসি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন এবং জেলা শহরে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ক্ষমতার দাপটে এখনো তিনি বহাল তবিয়তে আছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
https://slotbet.online/