আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২ নম্বর মধুহাটি ইউনিয়নের চান্দুয়ালী গ্রামে বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা চান্দুয়ালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় ফাঁড়ির এএসআই কামরুজ্জামান সহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিককে জানান, সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৪-৫ জন পালিয়ে গেলেও কোরবান নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি মহামিয়া গ্রামের আজিবারের ছেলে বলে পুলিশ জানায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক অভিযানের ভিডিও ধারণ করেন। পরে বাসায় ফেরার পর এএসআই কামরুজ্জামান ফোন করে জানান, আটক ব্যক্তি কোনো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এ ঘটনায় নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয় অভিযানের সময় ধারণ করা ভিডিও। ভিডিওতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আটক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছেন এবং এতে একজন কনস্টেবলের হাত কেটে গেছে।
এ বিষয়ে পরে এএসআই কামরুজ্জামানকে ফোন কলের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, আমরা পাশের রুম থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তাদের হাতে দিয়েছিলাম, এজন্যই তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি।
এএসআইয়ের এমন বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—যদি সত্যিই পুলিশের পক্ষ থেকে আটক ব্যক্তির হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে এবং কেন এমনটি করা হলো? আবার যদি আটক ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ কী? ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জানান, তার ভাবি মারা গেছেন এবং সে কারণে তিনি থানা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
https://slotbet.online/