মো. শামীম হোসাইন, পিরোজপুরে প্রথমবারের মতো সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা এক অসহায় (এতিম) মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর। ব্যতিক্রমী ও মানবিক এই আয়োজন ঘিরে সরকারি শিশু পরিবার ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিদায়ের মুহূর্তে হাসি-কান্নায় আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান।
রোববার (১২ জুলাই) রাতে পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবার ক্যাম্পাসে এ বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কনের অভিভাবক (পিতা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু সাঈদ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কনে সুহানি আক্তারকে বরের হাতে তুলে দেন এবং নবদম্পতির সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
সরকারি শিশু পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাবা-মা হারানোর পর সুহানি আক্তার ২০১৫ সালে পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় পান। সেখানেই স্নেহ-ভালোবাসা ও পরিচর্যায় বড় হয়ে ওঠেন তিনি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের বাসিন্দা রাকিব শেখের সঙ্গে এক লাখ এক টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
জমকালো এই বিয়ের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, সমাজসেবা অধিদপ্তর পিরোজপুরের উপপরিচালক মো. ইকবাল করিম, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক শাবানা খানমসহ জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বিয়েকে কেন্দ্র করে সরকারি শিশু পরিবারে বসবাসরত এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। তারা নাচ-গান ও বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সহপাঠীর নতুন জীবনের সূচনাকে উদযাপন করে। বিদায়ের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা উপস্থিত অতিথিদেরও আপ্লুত করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভিভাবকহীন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু একটি বিয়ের আয়োজন নয়, বরং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
https://slotbet.online/