• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

টানা বৃষ্টিতে পিরোজপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, আয় বন্ধের মুখে দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

মো. শামীম হোসাইনঃ / ৭৬ Time View
Update : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

মো. শামীম হোসাইন: গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পিরোজপুর জেলার জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার, নিম্নাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক চলাচল যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, রিকশা-ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক, মাছ ও সবজি বিক্রেতা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কাজ ও বেচাকেনা কমে যাওয়ায় তাদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছে।
জেলার সদর, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি), মঠবাড়িয়া, ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, নাজিরপুর ও জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে থেমে থেমে এবং কখনো ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাজারে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এতে দোকানপাটে ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার, মাছের বাজার, ফুটপাতের দোকান এবং চায়ের স্টলগুলোতে সকাল বেলা ছিল ক্রেতার সংকট। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার টাকার বিক্রি হতো, সেখানে এখন অর্ধেকেরও কম বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে বিক্রিই হয়নি বললেই চলে। বিশেষ করে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নির্মাণশিল্পেও বৃষ্টির বড় প্রভাব পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, ইট-বালুর কাজসহ অধিকাংশ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত নির্মাণশ্রমিক কাজ না পেয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেক দিনমজুর সকাল থেকে শ্রমবাজারে অপেক্ষা করেও কোনো কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।
রিকশা চালক ময়নুল আকন বলেন। বৃষ্টির কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় সারাদিন রাস্তায় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত ভাড়া মিলছে না। যে আয় দিয়ে প্রতিদিন পরিবারের খাবার ও অন্যান্য খরচ চলত, বর্তমানে তার অর্ধেকও হচ্ছে না।
টানা বৃষ্টিতে কৃষিখাতেও প্রভাব পড়েছে। অনেক কৃষক আমন ধানের চারা রোপণ, জমি প্রস্তুত এবং অন্যান্য কৃষিকাজ করতে পারছেন না। কোথাও কোথাও জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকদের মধ্যে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাছের ঘের ও পুকুরের মালিকরাও উদ্বেগে রয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে কাঁচা রাস্তা কাদাময় হয়ে পড়ায় গ্রামীণ জনপদের মানুষের চলাচল আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস জানান, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কয়েক দিন কাজ না থাকা মানেই পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়া। তাই টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
আবহাওয়া অনুকূলে না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/