সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জারি থাকলেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে। নির্ধারিত অফিস সময় পার হয়ে গেলেও একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে না পাওয়ায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত অফিস সময় অতিক্রম করলেও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রিয়াজুল ইসলাম, সিনিয়র টেকনোলজিস্ট এস. এম. নজরুল ইসলাম, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলী নেওয়াজ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সমিত কুমারসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
এ সময় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ নিয়ে আসা সেবা প্রত্যাশীদের অনেককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজে ডেপুটি সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি। কর্মকর্তা না থাকায় আমার কাজ আটকে আছে।”
এ বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রিয়াজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কখন অফিসে আসব, সেটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বলব। আপনাকে বলব কেন?”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত আছি, আপনারা পরে আসেন।”
সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে জনগণকে সেবা প্রদান করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে সেবা প্রত্যাশীদের অপেক্ষা ও ভোগান্তিতে পড়তে হওয়ায় সরকারি সেবার মান এবং সময়ানুবর্তিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনসেবার মান উন্নয়নেরও দাবি জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
https://slotbet.online/