ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লা (৫৮) মারা গেছেন। সোমবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ফরিদপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বগুড়া গ্রামের আদালত মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর আওয়াল ও সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জামির হোসেনের সমর্থক এনা শেখকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। এরপর সভাপতি আব্দুর আওয়ালের সমর্থক মতিয়ার রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনা শেখকে আটক করা হয়েছে—এমন সন্দেহে তার ওপর হামলা চালায় জামিরের সমর্থকরা।
এর প্রতিক্রিয়ায় আব্দুর আওয়ালের সমর্থকরাও জামির হোসেনের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ জুন) সকালে জামির হোসেনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, একেন আলী মোল্লা আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।
https://slotbet.online/