খুলনাসহ সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যখন কঠোর অভিযান পরিচালনার কথা বলা হচ্ছে, ঠিক তখনই খুলনার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের অবাধ বিচরণ ও ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদক বেচাকেনা চালিয়ে গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মাঝে মধ্যে দু-একজন মাদকসেবী বা ছোটখাটো বিক্রেতাকে আটক করা হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে বন্ধ হচ্ছে না মাদকের সরবরাহ। বরং আরও বিস্তৃত হচ্ছে মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিম্নমানের ও ভেজাল মাদক ছড়িয়ে পড়ায় তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক পরিবারে নেমে আসছে অশান্তি। মাদকের ছোবলে অনেকেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক সচেতনতা সভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়—“তথ্য দিন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন না থেকে তা মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে ভয় পাচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে খুলনা কীভাবে মাদক কারবারীরা এতটা নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে? প্রশাসনের ভেতরের কোনো দুর্বলতা, অবহেলা কিংবা অনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এলাকাবাসী মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বাধা যদি দায়িত্বশীলদের ভেতরেই থাকে, তাহলে সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই প্রয়োজন লোক দেখানো অভিযান নয়—প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা।
https://slotbet.online/