ঝিনাইদহের মহেশপুরে ফুফুর ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের নাটক সাজানোর ঘটনায় ভাতিজাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: উপজেলার জলিলপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে লিটন শেখ (৪০), একই গ্রামের আইয়ুব হোসেন খানের ছেলে আমিনুর রহমান খান (২৪) এবং আব্দুর রহিম বিশ্বাসের ছেলে মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। আটক লিটন শেখ ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের আপন ভাতিজা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিনা বেগম পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর এলাকা থেকে একটি এনজিওর ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি তার ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তারা মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ইউনিয়নের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। এ সময় সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহজনক একটি মোটরসাইকেল শনাক্ত করে। পরে ওই সূত্র ধরে প্রথমে আমিনুর রহমান খানকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে লিটন শেখ ও বরকত বিশ্বাসকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভাতিজা লিটন শেখই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই ছিনতাইয়ের নাটক সাজানো হয়েছিল।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, “লিটন শেখ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাইয়ের নাটক সাজায়। ঘটনায় জড়িত আরও একজন আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে।”
https://slotbet.online/