আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন : ঝিনাইদহের মাটির গন্ধে বড় হওয়া এক তরুণ—শামিম রেজা। সদর উপজেলার ২নং মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপালপুর গ্রামের মান্দার আলী মন্ডলের ছেলে। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন সংগ্রাম, ঘাম আর মাটির সাথে লড়াই। কিন্তু সেই পরিচিত পথেই থেমে থাকতে চাননি তিনি—স্বপ্ন দেখেছিলেন ভিন্ন কিছু করার।
একদিন হঠাৎ করেই তার মাথায় আসে আঙুর চাষের ভাবনা—যা এ অঞ্চলে খুব একটা প্রচলিত নয়। অনেকেই অবাক হয়েছেন, কেউ কেউ নিরুৎসাহিতও করেছেন। এমনকি শুরুতে নিজের পরিবার থেকেও পাননি কোনো সমর্থন। তবুও থেমে থাকেননি শামিম রেজা। নিজের স্বপ্নে অটল থেকে ৩৩ শতাংশ জমিতে ৬টি ভিন্ন জাতের আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি।
স্বপ্নের পথে হাঁটা কখনো সহজ নয়। মাত্র ৬ মাসেই তার খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পরিবারে তখনও ছিল সংশয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলাতে শুরু করে দৃশ্যপট। ছয় মাস পর যখন বাগানে ফলনের আভাস দেখা দিল, তখন বাবার চোখে ফুটে ওঠে বিশ্বাসের আলো। সেই অবিশ্বাস ভেঙে বাবা নিজেই যুক্ত হন ছেলের কাজে, পরে যোগ দেন ভাইও। একসময় যে স্বপ্ন একা দেখেছিলেন শামিম, তা হয়ে ওঠে পুরো পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
আজ বাগানের বয়স ৯ মাস। সারি সারি সবুজ লতায় ঝুলছে টসটসে আঙুরের থোকা—দেখলেই মন ভরে যায়। ফলের মানও আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো। শুধু ফলই নয়, এখন তিনি আঙুরের চারা বিক্রি করেও বাড়তি আয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার আঙুর রয়েছে, যা তার পরিশ্রম আর ধৈর্যের স্পষ্ট প্রমাণ।
এই পথচলায় একটি বিশেষ জায়গা জুড়ে আছেন তার এক বন্ধু। যখন সবাই সন্দেহ করছিল, তখন সেই বন্ধুই তাকে সাহস যুগিয়েছেন, এমনকি ৪৫ হাজার টাকা ধার দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই অবদান আজও শামিম রেজার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
কৃষক পরিবারের সেই ছেলেটি আজ শুধু একজন চাষি নন—তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। তার গল্প যেন প্রমাণ করে, সাহস আর পরিশ্রম থাকলে মাটির বুকেও জন্ম নেয় স্বপ্নের ফসল।
https://slotbet.online/