• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

তিন সন্তানকে ইউনিয়ন পরিষদে রেখে নিখোঁজ মাকে উদ্ধার, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

মো. শামীম হোসাইন / ১০৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় চরম অভাবের তাড়নায় তিন শিশু সন্তানকে ইউনিয়ন পরিষদে রেখে নিখোঁজ হওয়া মা মুক্তা বেগমকে (২৭) উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৮টা দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে তার সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে মুক্তা বেগমের স্বামী আমান উল্লাহ দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নিতেন না। তিন সন্তান- আরজিনি (৬), আছিয়া (৩) ও সাত মাস বয়সী খাদিজাকে নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন মুক্তা।

বুধবার সকাল ১১টার দিকে তিনি সন্তানদের নিয়ে চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। এ সময় পরিষদের চেয়ারম্যান তার জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করেন। পরে কৌশলে পরিষদের বারান্দায় শিশুদের রেখে তিনি সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুদের কান্না শুনে পরিষদের লোকজন তাদের উদ্ধার করে এবং বিষয়টি জানাজানি হয়।

জানা যায়, মুক্তা বেগমের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল একটি সেলাই মেশিন। কিন্তু মাত্র এক হাজার টাকা দেনার দায়ে স্থানীয় খোলপটুয়ার গ্রাম পুলিশ সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম তার সেই মেশিনটি কেড়ে নেন। এতে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও শ্বশুরবাড়ির শাশুড়ি নির্যাতন তার জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছিল বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য শাহিদা আক্তার পারুল।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় এবং আয়ের একমাত্র সম্বল সেলাই মেশিনটি হারিয়ে মুক্তা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় প্রশাসন। জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে ওই মাকে উদ্ধার করেছি। শিশুদের তাৎক্ষণিক খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্যকে ছিনিয়ে নেওয়া সেলাই মেশিনটি দ্রুত ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর স্থায়ী কর্মসংস্থান ও সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/