• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

বিচারহীনতার অভিযোগ: স্বামী হত্যার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে

আজাদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি- / ২২ Time View
Update : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

“আমার স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। সেই মামলার আসামিরা এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ জামিনে, কেউ আবার ক্ষমা পেয়ে বাইরে এসেছে। আমার সন্তানদের এতিম করা লোকগুলো বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে—এটা কেমন বিচার? আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি, তিনিই একদিন বিচার করবেন।” কথাগুলো বলছিলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের নিহত আলফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সম্পতি নেছা।

জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল রাতে কুলবাড়িয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা হানিফের নেতৃত্বে সার্জন, আব্দুল মালেক, শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী ও বেল্টু ওরফে তোয়াসহ কয়েকজন আলফাজ উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং পরে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর নিহতের বাবা আনজেল আলী বাদী হয়ে হানিফসহ ১৫ থেকে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চার্জশিট দাখিল করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০১ সালের ২০ নভেম্বর আদালত সার্জন, হানিফ, শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী, আব্দুল মালেক ও বেল্টু ওরফে তোয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। পরে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং বাকি আসামিদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সার্জন, হানিফ ও বেল্টু তৎকালীন রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পায়। এর মধ্যে হানিফ ২০২৫ সালে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামিও বিভিন্ন সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

নিহতের স্ত্রী সম্পতি নেছা অভিযোগ করে বলেন, “যাদের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল তারা এখন মুক্তভাবে ঘুরছে। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও জামিনে বাইরে আছে। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। আমার সন্তানদের জীবনও এখন হুমকির মুখে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এত বছর ধরে ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি, কিন্তু এখনো সঠিক বিচার পেলাম না। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তারা আবার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।”

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম মশিয়ুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তারা জানান, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/