এম এ মোমিন, ক্রাইম রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন ‘মন ফিলিং স্টেশনে’ জ্বালানি তেল বিতরণ নিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা দায়িত্ব পালনরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সড়কে আটকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
গত ৩১-শে মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজনার সূত্রপাত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে রাত গড়িয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই মন ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠতে থাকে। সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। যেখানে সাধারণ চালকদের মাত্র ২০০-৩০০ টাকার তেল দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, সেখানে প্রভাবশালীদের ৩০ লিটার পর্যন্ত তেল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অনেককে বারবার তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেলে উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তেল বিতরণে এই বৈষম্যকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে ঢোলারহাট ইউনিয়ন ও রুহিয়া এলাকার বাসিন্দারা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে রুহিয়া থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলমসহ অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির। অনিয়মের অভিযোগে তিনি কয়েকটি মোটরসাইকেল জব্দ করলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তেল বিতরণ স্থগিত রেখে ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে উত্তেজিত জনতা সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এ সময় সাধারণ মানুষ মজুতকৃত তেলের সঠিক হিসাব ও স্বচ্ছ বন্টনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যস্থতায় কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
ঘটনার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির সাংবাদিকদের জানান, “ফিলিং স্টেশনে ৩৮৪ লিটার পেট্রোল অবশিষ্ট ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশিষ্ট তেল বিতরণ করা হয়েছে।”
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, সংবাদের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
https://slotbet.online/