বিরলবাসী যুগে যুগে স্মরণ রাখবেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর ক্লান্তিহীনভাবে নিরলস চেষ্টার ফলাফল আশাবাদ সকলের।
হ্যাঁ যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন, সকলের অত্যন্ত পরিচিত সততা, নিষ্ঠা আর সৎ কর্মের মাধ্যমে গত দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের আস্থার আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ এর কথাই বলা হচ্ছে। একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টিতে কর্মক্ষেত্রে তাঁর নিরলস কর্মকান্ড সম্পাদন করে জনমনে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি অকপটে স্বীকার করতেই হয়। জনসাধারণের জন্য সার্বক্ষণিক অফিসের দরজা খোলা রাখাসহ বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আইনের আওতায় এনে তাৎক্ষণিক দন্ড প্রদান করায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বিরলে যোগদানের পর থেকে সমাজে শৃংখলা আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ পর্যন্ত ১৪৩২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
তার মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪১৩ টি মামলায় আসামীকে জেল প্রদান করেন এবং জেলসহ জরিমানা চার লক্ষ সাইত্রিশ হাজার আটশত পঞ্চাশ টাকা আদায় করেন। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ১০ টি অপরাধ এর জরিমানা করেন। জরিমানা অন্তে ছয় লক্ষ টাকা আদায় করেন। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৭২ টি জরিমানা করেন। জরিমানা অন্তে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার তিনশত টাকা আদায় করেন। সড়ক বা যানবাহনে ৫৬৫ টি জরিমানা করেন। জরিমানাতন্তে পাঁচ লক্ষ চৌত্রিশ হাজার পাঁচশত পঞ্চাশ টাকা আদায় করেন।
কৃষকের সারের ন্যায্য পাওনার জন্য সার ব্যবস্থাপনা আইনে ২৬ টি জরিমানা করেন। জরিমানা করে দুই লক্ষ উনিশ হাজার পাঁচশত টাকা আদায় করেন। মৎস্য অধিদপ্তরের সহায়তার প্রায় আঠারো লক্ষ টাকা মূল্যের অবৈধ জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়।
তিনি যোগদানের পর থেকে বিরল উপজেলার সেবাগ্রহীতার আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রায় ৩৪,০০০ হাজার নামজারী নিষ্পত্তি করেন। নামজারি বাবদ সরকারি ফি দুই কোটি আত্রিশ লক্ষ আটষট্রি হাজার টাকা আদায় করেন এবং পরবর্তীতে কর বর্হিভূত রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়।
খাস জমি ব্যবস্থাপনায় যোগদানের পর থেকে ৭৪.১২ একর একর খাস জমি বা সরকারি সম্পদ উদ্ধার করেন এবং যার আনুমানিক মূল্য চৌদ্দ কোটি বিরাশি লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা। শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে যোগদানের পর থেকে ১৭৪ টি শালিশি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪৩ টি শালিসি মামলার মাধ্যমে সেবা গ্রহীতার জমি উদ্ধার হয়েছে।
অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় যোগদানের পর থেকে অর্পিত সম্পত্তি বাবদ পয়ত্রিশ লক্ষ আঠারো হাজার আটশত পাঁচ টাকা আদায় করেন। পরিত্যাক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় যোগদানের পর থেকে পরিত্যাক্ত বাবদ টাকা আদায় দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার চারশত পঁচানব্বই টাকা আদায় করেন।
আরো উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে উপজেলায় সরকারি ভবন বা ৫ টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পাঁচ কোটি পঁচাশি লক্ষ পনের হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা নির্মাণ ব্যায়ের মাধ্যমে আজিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস বিরানব্বই লক্ষ পনের হাজার, ধামইর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এক কোটি দশ লক্ষ কুড়ি হাজার, বিরল ইউনিয়ন ভূমি অফিস এক কোটি ছয় লক্ষ চল্লিশ হাজার, বিজোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঊননব্বই লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার পাঁচশত, মঙ্গলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঊননব্বই লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার দুইশত পঞ্চাশ ও রানীপুকুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছিয়ানব্বই লক্ষ নিরানব্বই হাজার পাঁচশত ব্যায়ে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি যোগদানের পর থেকে ১৮৪ টি মিসকেস মামলা দায়ের হয় এবং পূর্ববর্তী পেন্ডিং মামলা ১০৮ টিসহ মোট মামলা ২৯২ টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তিকৃত মামলা ২৪৬টি। সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনায় সরকারি পুকুর হতে সাতাশ লক্ষ ছিয়াশি হাজার টাকা আদায় করেন। অর্পিত সম্পত্তির পুকুর হতে উনত্রিশ লক্ষ সাতান্ন হাজার টাকা আদায় করেন। সাধারণ ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করেন তিন কোটি সাতাশি লক্ষ চুরানব্বই হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা যার মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার এক কোটি আট হাজার পয়তাল্লিশ হাজার ছয়শত সত্তর টাকা আদায় করেন।
গত ১৯ মে-২০২৪ খ্রিঃ বিরল উপজেলায় যোগদানের পর থেকে তাঁর সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের জন্য চরম আতঙ্ক ও সাধারণ জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ইশতিয়াক আহমেদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন। ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি বিরল উপজেলায় নিজের শেষ কর্মদিবস সম্পন্ন করে পার্শ্ববর্তী কাহারোল উপজেলায় যোগদান করেছেন এবং ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিরলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেছেন প্রবীর বিশ্বাস।
একদিকে অফিসার্স ক্লাব এর পক্ষ হতে গতকাল বিদায় সংবর্ধনা ও অপরদিকে আজ নবাগত কর্মকর্তাকে বরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস এর নিকট বিরলবাসীর প্রত্যাশা অতীতের ধারাবাহিকতা যেন তাঁর কাজের ধারাবাহিকতাকে আরো উজ্জ্বীবীত করে এবং সর্বপরী বিরল উপজেলায় সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। আর বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ এর ভবিষ্যৎ জীবনে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও উন্নতিসহ সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক বিরল উপজেলার সংবাদমাধ্যম বিরল এইচডি টিভি ও আজকের বিরল পরিবারের পক্ষ হতে।
https://slotbet.online/