• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা ডিএসসিসির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠালেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দেবিদ্বারে বন্ধকী জুট মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, ২ ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৮ বিরলে হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাবি বিএনসিসির প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের অপর্ণা ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দেবিদ্বারে মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার….সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে একমাত্র নারী আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দলীয় প্রভাবের আড়ালে প্রতারণা ও মাদক নাটক—নাগরপুরে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৪৮৫ Time View
Update : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং পরিকল্পিতভাবে নিরীহ ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোঃ মনির হোসেন উপজেলার কলমাইদ গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনির হোসেন নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন তিনি এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সেচ পাম্প ও বিদ্যুৎ সংযোগ (কারেন্ট মিটার) পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত সেবা ওনেকেই পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দিয়েছি সেচ পাম্পের জন্য। কিন্তু আজও পাম্প পাইনি, টাকাও ফেরত দেয় না।”
আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ,
“কারেন্ট মিটার ও সেচ পাম্প দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকেও টাকা নিয়েছে। টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এই জন্য গ্রাম্যভাবে বিচার দিয়েছি, কিন্তু তার লোকজনের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটিবাহী যানবাহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে মনির হোসেনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্রাট নামে এক যুবককে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করতে বলা হয়। পরে সম্রাট তার পরিচিত সিয়ামকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াবা কিনতে যান—যদিও সিয়াম বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেছেন সিয়াম নিজেই।
অভিযোগ রয়েছে, মনির হোসেন সম্রাটকে লোভ দেখিয়ে এই কাজে পাঠান এবং ধরা পড়লে জামিনের আশ্বাস দেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়াবা সংগ্রহ করে ফেরার পথে মনির ও তার সহযোগীরা সম্রাট ও সিয়াম কে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুরো ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল সম্রাটকে লোভে ফেলে তাকে ব্যবহার করে সিয়ামকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে। ঘটনার পর সম্রাটের পরিবারকে জামিনের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/