মো. শামীম হোসাইন: পিরোজপুরের নেছারাবাদে নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বন্ধুকে মাথাবিচ্ছিন্ন করে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বরিশাল র্যাব-৮ এর সহযোগিতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে র্যাবের সঙ্গে এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বরিশালের কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (২৮) এবং পিরোজপুরের দূর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৩৫)। তাদের মধ্যে সম্রাট বরিশালের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রাজু পেশাদার মাদককারবারি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে ট্রাকচালক গোপাল চন্দ্র দাস (৪০)-কে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর পাড়ে একটি ইটভাটার পাশে নিয়ে যায় সম্রাট ও রাজু। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করার পর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয় তারা।
পরে একই দিন বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে ওই মরদেহ উদ্ধার করে নেছারাবাদ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, নিহত ব্যক্তি ও গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই মাদককারবারির সঙ্গে জড়িত ছিল। নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার পেছনের আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, হত্যার পর নিহতের মাথা এবং হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে এখন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ র্যাবের সহায়তা চাইলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, ইটভাটার প্রবেশপথে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ইটভাটায় প্রবেশ করে। পরে গোপালকে হত্যার কিছু সময় পর একই মোটরসাইকেলে সম্রাট ও রাজু সেখান থেকে বের হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র্যাব সদস্যরা শনিবার দুপুর ২টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর চৌমাথা এলাকার গণপাড়া থেকে সম্রাটকে এবং একই দিন রাত ৮টার দিকে বরিশাল নগরীর স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মাদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/