আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন : ঝিনাইদহ জেলায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে অবৈধ মাটি কাটা ও বিক্রির কার্যক্রম। জেলার ছয়টি উপজেলায় একই চিত্র দেখা গেলেও রাতের বেলায়ই এসব চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও তাতে কার্যকর কোনো পরিবর্তন আসছে না। বরং শাস্তির পর এসব চক্র আরও লাগামহীন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ, কিছু সাংবাদিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই রাতের আঁধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল–নদী, সরকারি খাসজমি, ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি এমনকি পুকুর থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব মাটি অবৈধ ট্রলি যুক্ত ট্রাক্টরের মাধ্যমে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা—প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ, অনেকে হচ্ছেন স্থায়ীভাবে পঙ্গু। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পুকুর সংস্কারের নাম ব্যবহার করে এস্কাভেটরের মাধ্যমে চলছে রমরমা মাটির ব্যবসা। সারারাত ট্রলি-ট্রাক্টরের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষ। ভারী যান চলাচলের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সড়ক। শৈলকুপা, সদর, হরিনাকুন্ডু, কালীগঞ্জসহ জেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাটি ব্যবসায়ী জানান, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই ব্যবসা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাতের বেলায় দল বেঁধে কিছু নামসর্বস্ব সাংবাদিক এসে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়। পুলিশ ও কিছু কথিত সাংবাদিক প্রতিদিনই অর্থ আদায় করে।
অপর এক মাটি ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দিনের বেলায় মাটি কাটলে নানা ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়। নতুন কিছু ব্যবসায়ী স্থানীয় নেতা, পুলিশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে দাপট দেখাচ্ছে, ফলে পুরোনো ব্যবসায়ীরা চাপের মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। কোথাও অবৈধভাবে মাটি কাটার তথ্য পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
https://slotbet.online/