• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

নেছারাবাদ ৩৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান কাঠের হাট

মোঃ শামীম হোসাইন / ১২৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
oplus_0

দেশের সর্ববৃহৎ কাঠের মোকাম হিসেবে পরিচিত পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা। প্রায় ৩৫০ বছর আগে, ১৬৯৩ সালে এই অঞ্চলে কাঠ ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সোহাগদলের ষজুরুদ্দিন, কুড়িয়ানার বিষ্ণুপ্রসাদ ও দ্বারকানাথ এবং বিন্না গ্রামের ব্রজগোপাল প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের সুন্দরী ও বার্মার বার্মাটিক কাঠ নিয়ে কাঠুরিয়াদের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন।

১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকার ফরেস্ট অ্যাক্ট-১৯২৭ সংশোধন করে সুন্দরবনের পরিবেশ ও বনজ সম্পদ রক্ষায় সুন্দরী গাছ কাটা এবং আগা-মরা গাছের নিলাম বন্ধ করে দেয়। এতে কোটি কোটি টাকার গাছ বনেই পচে যাচ্ছে। খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক দপ্তরের মতে, পারমিট বন্ধের কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ২৪ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সুন্দরবনের গাছ কাটা বন্ধ হওয়ার পর ১৯৯৯ সাল থেকে মেহগনি, চাম্বল, রেইনট্রি, গামারি, শিমুল, আকাশমনি, কাঠবাদামসহ দেশীয় গাছের চাহিদা বেড়ে যায়। ২০০৩ সাল নাগাদ সন্ধ্যা নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খালের চর যেমন খালেরচর, শীতলা খাল, বরছাকাঠি, বয়ারউলা, ডুবি, ভাইজোড়া, মাহামুদকাঠি ও বিন্নাসহ ২৬টি স্থানে ভাসমান কাঠের হাট গড়ে ওঠে।

নেছারাবাদের এই হাটকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সহস্রাধিক শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পিরোজপুর বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, নোয়াখালী, ফরিদপুরসহ দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কাঠ ব্যবসায়ীরা সাধারণত ২৫-৩০টি নৌকার বহরে করে আসেন জলদস্যুদের ভয়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল জানান, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে গাছ সংগ্রহ করে খালের চরে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, বছরজুড়ে এই ব্যবসা চলে, তবে বৃহস্পতি ও সোমবার বিশেষ হাট বসে। প্রতি হাটে কোটি কোটি টাকার কাঠের লেনদেন হয়।

চরের ভাড়াও কম নয়—মাত্র তিন শতাংশ জায়গার জন্য বছরে দিতে হয় প্রায় লাখ টাকা। বরছাকাঠির প্রবীণ ব্যবসায়ী হাসেম আলী বলেন, তার চার ছেলে কাঠ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে আজ স্বাবলম্বী। চরের ব্যবসায়ী সেলিম জানান, ভাসমান হাটকে ঘিরে অসংখ্য স মিল, ফার্নিচার কারখানা ও কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তবে এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা বর্তমানে নানা সংকটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব, সহজ শর্তে ঋণের অভাব, দালালচক্রের উৎপাত, জলদস্যুদের ভয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিকল্পিত বনায়নের অভাবে ব্যবসাটি আজ হুমকির মুখে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানা ইনচার্জ বনি আমিন বলেন, “ভাসমান হাটে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “দালালচক্র ও জলদস্যুদের দমন এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় নৌপুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/