গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ভুয়া ডাক্তারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে চার সাংবাদিক অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের বৈরাগবারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার বরমী সাহা মেডিসিন কর্ণার ও বাপ্তা সেবা ফার্মেসিতে “ডা. মো. কামাল হোসেন” নামধারী এক ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ১ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল সার্ভিস (ডি.এম.এস) কোর্সের একটি সনদ ব্যবহার করছেন, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর সি-২১২৪৯১। তবে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করে কামাল হোসেনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা প্রমাণ করে যে তার ব্যবহৃত সনদটি ভূয়া।
ঘটনার সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধানে গিয়ে বাপ্তা সেবা ফার্মেসিতে পৌঁছান চারজন সংবাদকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, ফার্মেসির মালিকের উসকানিতে পাশের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক সোহাগের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা করে এবং জোরপূর্বক একটি স্থানে আটকে রাখে।
অবরুদ্ধ চার সাংবাদিক হলেন:
মোমেন আকন্দ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
মহসিন মিয়া শাহীন, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি,দৈনিক আজকের বাংলা
মোফাজ্জল হোসেন, শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের বাংলা
আল-আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা সময় নিউজ ২৪
পরে অন্য সাংবাদিকদের একটি দল গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-পরিদর্শক ডা: শফিকুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
ঘটনার পর সাংবাদিকরা শ্রীপুর মডেল থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করলেও ঘটনার দুই ঘণ্টা পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। সাংবাদিকদের অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ব্যবস্থা নেননি।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুয়া চিকিৎসা, অবৈধ চেম্বার ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
https://slotbet.online/