• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

জমি দখল করে চলছে অবৈধ গ্যাস কারখানা

মোঃ শামীম হোসাইন / ১২৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

পি‌রোজপু‌রের না‌জিরপুর উপজেলার জনবহুল এলাকা মা‌টিভাঙা ক‌লেজ মোড়, এখা‌নে নামসর্বস্ব এক‌টি গ্যাস কারখানা সরকারি নীতিমালা শর্ত লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন মাটিভাংগা পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় এমন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কাটা রফিক নামের এক আওয়ামী লীগের প্রভাশালী ব্যক্তি কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেননি। উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম বাবুলকে মাসোহারা দিয়ে চালাতেন এ অবৈধ কারখানা। বর্তমানে স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরে আলমের ছত্রছায়ায় রমরমা ভাবে এ অবৈধ কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ পেয়ে সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে সাংবা‌দিকেরা কারখানায় গে‌লে দ্রুত সটকে পড়েন কারখানার মালিক ও শ্রমিকেরা। কারখানাটি অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি প্রসানশনকে সাংবাদিকেরা অবগত করলে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন পিরোজপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন, সেনাবাহিনীর মেজর ইশরাকের একটি টহল টিম, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসময় তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। কারখানা ঘুরে বিভিন্ন ব্রান্ডের স্টিকার ও খালি গ্যাস সিলিন্ডার ক্যাপসহ নানা ধরনের উপকরণ পান। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিপু শরীফের জিম্মায় রাখেন। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের স্বার্থে স্থানীয় জনতাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন এবং কারখানা মালিক রফিককে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশে দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

শরিফুল আলম নামের এক ব্যক্তি জানান, আমার ৯ শতক জমি দখল করে নিয়ে গেছে। আমার বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার রেখে দিয়েছে। বসতির ভিতরে গ্যাস কারখানা কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। কয়েকবার এখানে আগুন ধরেছে পুড়ে গেছে। আমার গাছ কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরে আলমের নেতৃত্ব। সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জোড়ে এতোদিন অবৈধ গ্যাসের ব্যবসা চালিয়েছে এখন বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরে আলম।

একই জায়গার বাদশা মিয়া ১ শতক ও সবুর ৩ শতক জমি জোড় করে দখল নিয়েছে। সবুর ও বাদশা মিয়া জানান, গায়ের জোড়ে গ্যাস ব্যবসায়ী কাটা রফিক আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে। রফিকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সে তাদের হুমকি দেয়।
স্থানীয় এক গ্যাস ব্যবসায়ী আসাদ শেখ জানান, কাটা রফিক যখন গ্যাসের ব্যবসা শুরু করে তখন আমি তাকে বোতল চিনিয়েছি। কিন্তু তার কারণে এখন ব্যবসা করতে পারি না। আমাদের চেয়ে গ্যাসের দাম ৫০-১০০ টাকা কম নেয় এবং কাটা রফিক গ্যাসের বোতল কেটে বিক্রি করে ওজনে কম দেয় এখানে বসে গ্যাস প্যাকেটজাত করে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, রাত-দিন এখানে ট্রাকে আনলোড হয় তার শব্দে ঘুমাতে পারি না। এখানে কয়েকবার আগুন লেগেছে। গ্যাসের গন্ধে থাকা কষ্টের। প্রসাশান ও স্থানীয়দের জানানলে তারা রফিকের সঙ্গে পেড়ে উঠতেছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, কাটা রফিকের এখানে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়। তিনি কয়েকটি মামলার আসামিও শূন্য থেকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে এই কাটা রফিক।

অভিযোগের ব্যাপারে কাটা রফিক গ্যাস কারখানা মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনাতে আছেন বলে ফোন কেটে দিয়ে। তারই বোন জামাই স্বরুপকাঠী উপজেলার ব্যবসায়ী জাকিরকে পাঠিয়ে সাংবাদিক ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন সাংবাদিক ও স্থানীয়দের বলেন, তিনি একজন গ্যাস ব্যবসায়ী। একটি গ্যাসের ডিলার। তিনি বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস বিক্রি করেন। খালি বোতলগুলো নিজের মতো করে রিফিল করে বিভিন্ন কোম্পানির ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। উনার যদি লাইসেন্স থাকে ওই অনুসারে গ্যাস এনে বিক্রি করতে পারবেন কিন্তু উনার রিফিল করার কোনো সুযোগ নাই। অনেকগুলো খালি বোতল ছিল এবং রিফিল করা যন্ত্রপাতি ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও স্যার এর পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/