পিরোজপুর প্রতিনিধি:পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তাঁর মরদেহ পুলিশ লাইন্সে রাখা হয়। তবে দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন মানিক পশারী। এ সময় তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তাঁর জামাতা ফারুক হোসেন জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার সকাল ১১টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর শহর অতিক্রম করার সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এ সময় মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরদেহ জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে নেওয়া হয়। এদিকে পুলিশ লাইন্সের বাইরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মানিক পশারীর গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হলেও পরে তা ভরাট করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কবরের আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
এ বিষয়ে পাড়েরহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জালাল হোসেন বলেন, “মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মানিক পশারী। তাই স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে দিতে চান না। কবর ঘিরে রাখা হয়েছে বলে শুনেছি। মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পিরোজপুরের মাটিতে যাতে তাঁর মরদেহ দাফন করা না হয়, সে জন্য জনতা বিক্ষোভ করছে।”
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ লাইন্সের ভেতরে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
দাফনের বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, “আমরা মানিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। দেখা যাক কী হয়।”
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী ছিলেন মানিক পশারী
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহের দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
https://slotbet.online/