নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তিতাস নদীর তীর ভরাটের ঘটনায় দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু অপসারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঁধে দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ভরাট করা বালু আগের অবস্থায় পড়ে থাকায় নদীর তীর পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর নবীনগর সদর এলাকায় তিতাস নদীর তীর ভরাটের অভিযোগে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলাম। এ সময় আহমদ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ ফরিদ মিয়াকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হলেও ভরাটে ব্যবহৃত বালু ১৫ দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নদীর তীর থেকে বালু অপসারণ করা হয়নি। ফলে জরিমানা ও বালু সরানোর নির্দেশের পরও নদীর ভরাট করা অংশ আগের অবস্থায় রয়ে গেছে। এতে প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর জরিমানার অর্থ আদায় হলেও বালু অপসারণের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, শুধু অর্থদণ্ড আদায় করলেই নদীর তীর ভরাটের সমস্যার সমাধান হবে না, ভরাট করা বালু সরিয়ে নদীর জায়গা পুনরুদ্ধার করাও জরুরি।
এদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু অপসারণ না করার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নদীর তীর ভরাটের ঘটনায় প্রশাসন যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় নদী রক্ষায় নেওয়া অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে সংশয় থেকে যাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে ভরাট করা বালু অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিতাস নদীর তীর পুনরুদ্ধারে প্রশাসন এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
https://slotbet.online/