মোহাম্মদ উল্লাহ ভূইয়া (সোহাগ) কুমিল্লার দেবিদ্বারে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ফি আদায় ও মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগে ১১টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অভিযানকালে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকের নামে মিথ্যা ও চটকদার প্রচারণা এবং রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে এসব অনিয়মের দায়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অঙ্কে জরিমানা করা হয়।
জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাগুর মা মনি মেডিকেল হাসপাতাল ২০ হাজার, চান্দিনা মেডিনোভা হাসপাতাল ২০ হাজার, দেবিদ্বার মনোয়ারা হসপিটাল ৯০ হাজার, দেবিদ্বার মেডিক্যাল সেন্টার ৪০ হাজার, আব্দুল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭০ হাজার, মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৮০ হাজার, আলিফ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ৪০ হাজার, গোমতী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৪৫ হাজার, দেবিদ্বার মেডিনোভা হসপিটাল ৫ হাজার, অ্যাপোলো হসপিটাল ৮০ হাজার এবং মেডিকমপ্লেক্স হাসপাতাল ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে কয়লা রেস্তোরাঁয় বাসি খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউসার মিয়া উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও দেবিদ্বার থানা পুলিশের দুটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০, ৪৪ ও ৫২ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১১টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকার চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করানো এবং মিথ্যা ও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোগী বা ভোক্তাদের আকৃষ্ট করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের কারণে সেবাগ্রহীতাদের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
https://slotbet.online/