মো. শামীম হোসাইন: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে অচেতন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অসুস্থ তিনজনকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চাড়খালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থরা হলেন—ওই গ্রামের ব্যবসায়ী আমির হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী মাহিনুর বেগম (৪০) ও ছেলে তাওহীদ (১৬)।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার রাত ৮টার দিকে তারা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। সকালে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘরের ভেতরে একটি ট্রাংকের তালা খোলা এবং জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, ট্রাংকে রাখা নগদ ৭০ হাজার টাকা ও মাহিনুর বেগমের স্বর্ণের কানের দুল পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিবেশী ফিরোজ মল্লিক বলেন, সকালে খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে যান। তখন তিনজনই অসুস্থ ছিলেন এবং পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরেক প্রতিবেশী সাথী আক্তার বলেন, সকালে পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়, জিনিসপত্র এলোমেলো এবং পরিবারের তিন সদস্য আলাদা জায়গায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমির হোসেন বলেন, “রাত ৮টার দিকে আমরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর সকাল ৯টা পর্যন্ত আমাদের কোনো হুঁশ ছিল না।”
আমির হোসেনের বড় ছেলে মিরাজ ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি বলেন, সকালে প্রতিবেশীদের ফোনে ঘটনাটি জানতে পারেন। তার বাবা, মা ও ছোট ভাই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘর থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও তার মায়ের স্বর্ণের কানের দুলসহ কিছু জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
https://slotbet.online/