• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা ডিএসসিসির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠালেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দেবিদ্বারে বন্ধকী জুট মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, ২ ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৮ বিরলে হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাবি বিএনসিসির প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের অপর্ণা ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দেবিদ্বারে মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার….সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি

সারা দেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজও ‘নো প্রমোশন নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচি পালন

মোঃ নজরুল ইসলাম খান, স্টাফ রিপোর্টার: / ১৯৫ Time View
Update : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

১৬ নভেম্বর রোজ রোববার থেকে সারাদেশে সকল সরকারি কলেজে No Promotion, No Work কর্মসূচি পালন করছে ৩২ থেকে ৩৭ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকবৃন্দ। এবং তাদের সাথে একমত পোষণ করে কর্ম বিরতি পালন করছে অন্যান্য ব্যাচের প্রভাষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ। ৫ বছরের পদোন্নতি ১২ বছরে হচ্ছে না শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বিগত ১২ বছর ধরে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক পদে কর্মরত শত শত কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৩২তম থেকে ৩৭তম ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতিযোগ্য সকল কর্মকর্তার সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে ” বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ ” বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনের মাঝে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদোন্নতির ডিপিসি সভা সম্পন্ন করে সরকারি আদেশ জারির মুহূর্তে আটকে যাচ্ছে ১২ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত ২০০০ বিধিমালা প্রণয়নকালে নেওয়া হয়নি আইন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত। অদৃশ্য জালে আটকা পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০০ বিধি নামে একটি বিধি জারি করে। বিতর্কিত এই বিধির ৬(৫) অনুযায়ী আত্মীকৃত শিক্ষকগণ সকল যোগ্যতা অর্জন করলে নিয়মিতকরণ হলে তখন ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ২০২৪ সালে একটি বিশেষ সময়ে বিধিমালা ২০০০ অমান্য করে একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতে ১২ বছর থেকে ৭ বছর পর একই তারিখ ও স্মারকে স্থলাভিষিক্ত করে ৫৪টি আদেশ (সাম্প্রতিক ৩টা সহ মোট ৫৭টি) জারি করে। যা ২০১৮ বিধি এবং সচিবালয় নির্দেশমালারও সুস্পষ্ট লঙন! বেসরকারি কলেজের শিক্ষক যখন শিক্ষা ক্যাডারের আত্তীকৃত হবে তার ১৪টা ধাপ শেষ করে এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত হবে কিন্তু বিধি লঙন করে ৫৭টি আদেশে প্রায় ২৩০০ আত্মীকৃত শিক্ষক ক্যাডার হিসেবে সিনিয়রটি হওয়ার অবৈধ সুযোগ পাবে। এই ৫৭টি অবৈধ আদেশ বাতিলের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ ক্যাডার কর্মকর্তারা গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যম হয়ে সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ১১ টি আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র সচিবের কাছে প্রতিবেদনসহ মীমাংসা চেয়ে চিঠি দিলেও সেই চিঠির বিষয়ে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ভুক্তভুগি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা গত ৮ মাস মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কেউ কথা বলেনি। এমনকি এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মন্ত্রণালয় সব সময় অদৃশ্য কারণে বিষয়টি এড়িয়ে চলেন। তাছাড়া ইতোমধ্যে ২০১৮ বিধি দ্বারা ২০০০ বিধি বাতিল করা হয়েছে ৩১ জুলাই ২০১৮।

গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা মাউশি অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন কর্মসূচি এবং সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১ বছর ২ মাস ২৪ দিন পূর্তি হয়েছে। বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রকাঠামোর দাবিতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নানাভাবে বৈষম্যের শিকার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারগণ এক বুক আশা বেধেছিল এই ভেবে যে, এবার মনে হয় ধীরে ধীরে সকল বৈষম্য ঘুচবে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা পদোন্নতির জট এবার খুলবে এবং আমরা পদোন্নতি যোগ্য সকলেই পদোন্নতি পাবো কেননা এটি আমাদের চাকরি জীবনের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু বিধির বাম, আমাদের সকল আশায় গুড়েবালি হয়েছে। কেননা আমরা চাকরি জীবনের প্রথম পদোন্নতি ৫ বছরে পাওয়ার কথা থাকলেও ১২ বছরে আজও পাইনি। অথচ পদোন্নতির যোগ্যতায় রয়েছে চাকরির স্থায়ীকরণ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা, ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষায় ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ, সন্তোষজনক এসিআর আর কোন বিভাগীয় মামলা না থাকা। এসকল যোগ্যতা অর্জন করেও আমরা আজও দীর্ঘদিন ধরে প্রভাষক।

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা বাংলাদেশ পাবলিক সিভিল সার্ভিসের প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির সকল ধাপ অতিক্রম করে যোগদান করে। যোগদানের পর পরই প্রতিটি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বুঝতে পারে তারা চরম বৈষম্যের শিকার একটি ক্যাডারে যোগদান করেছেন। কেননা যোগদানের পরক্ষণেই তারা জানতে পারে ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এই ক্যাডারে প্রথম পদোন্নতি ভাগ্যে জোটে না। এ ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ অধ্যাপক, সবার ভাগ্যে অধ্যাপক পদটি জোটে না। এবং আরো অবাক হওয়ার বিষয় হলো এই ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ অধ্যাপক রাষ্ট্রীয় বেতন কাঠামোর চতুর্থ গ্রেডে আটকে যায় অর্থাৎ এই ক্যাডারে ৩য়, ২য়, ১ম গ্রেড পদ নেই। আমরা আরো হতাশ হয় যখন শুনি শিক্ষা ক্যাডারের সিডিউল ভুক্ত পদ দিন দিন কমে যাচ্ছে। শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আমাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পাওয়ার অধিকার আমাদের সংরক্ষণ নেই! এতএত হতাশার ও বৈষম্যমূলক তথ্য জানার পর ভঙ্গুর মন নিয়ে আমরা সরকারি নিয়ম বিধি মেনে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা তো মানুষ? আমাদের তো মন আছে, অনুভূতি আছে। আমরা আর পারছি না। এ সমাজ ব্যবস্থায় আমরা আজ নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। এভাবে আর জীবন চলতে পারেনা। আমরা এ অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি চাই। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে চাই।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকগণ বলেন যতদিন তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না করা হবে ততদিন তারা শ্রেণি কার্যক্রম থেকে দূরে থাকবে, তাই সরকারের উচিত তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/