আজিজুল ইসলাম মজুমদার :
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়নের জায়গীরহাট সংলগ্ন ২ একর ৭৮ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ৭৮ টি ঘর নির্মানের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো অনেক আগেই। কিন্তু গৃহহীনদের জন্য এসব ঘর নির্মান করতে গিয়ে শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসনকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। ভূমিদস্যুদের কালো থাবায় বার বার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ঘরের অবকাঠামো। বাঁধা আর প্রতিকুলতা পেরিয়ে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত এসব ঘরে গৃহহীনরা যখন বসবাসের স্বপ্ন দেখছিলেন,তখন রাতের আঁধারে ঘরগুলো ভেঙে ঘরের দরজা,জানালা, ইট,রড চুরি করে নিয়ে গিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এমনকি ঘর ভেঙে জমি দখল করে সীমানা নির্ধারণ করেছে ভূমিদস্যুরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মানাধীন ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে সে ঘরগুলির কয়েকটির দরজা, জানালা খুলে নিয়ে গেছে। ল্যাট্রিনের রিংগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, আমরা আপনাদের কিছু বলতে পারবোনা। আপনাদের কিছু বলতে গেলে
ভূমিদস্যু মন্টু মিয়া, চান মিয়া, রবিউল, হামিদুল, বাদশা গং তাদের গুন্ডা বাহিনী আমাদের উপর লেলিয়ে দিবে। আমরা এসব অন্যায় দেখেও কিছু করতে পারছিনা। তাদের দাবি, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা তোজাম্মেল প্রিন্সিপালের আত্মীয়-স্বজন হওয়ায় অভিযুক্তরা তার প্রভাবে সরকারি সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগ দখল করার পায়তারা করছে।
স্থানীয়রা জানান, আশ্রয়নের ঘরগুলি নির্মাণের শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঘর নির্মাণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা নানাভাবে হুমকী ও বাধা পেয়ে আসছিলেন। গত ০৫ আগষ্ট সরকার পতনের সূযোগে দলবল নিয়ে আবাসনের ঘরগুলো ভেংগে দেওয়া হয়েছিল। এখানে যারা কাজ করছিল তাদের মারপিট করে বিতাড়িত করা হয়েছে। মিস্ত্রীদের কেউ কেউ আশেপাশের বাসায় লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।সে সময়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলেও আবারো কয়েক দিনে সেগুলো ভেঙে লুটপাট ও চুরি করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা উপস্থিত না হলেও তাদের পক্ষে ৫০/৬০ জন নারী আশ্রয়ন প্রকল্পে এসে জানান, এখানে যেই আসবে তাদের মাথা ফেলে দেওয়া হবে। এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্রয়নে আসার অপেক্ষায় তারা আছেন বলে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে তারা সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ জানান, এলাকার অসহায়, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ২.৩৮ শতাংশ সরকারি খাস সম্পত্তিতে একক পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ভূমিদস্যুরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আশ্রয়ণের ঘরের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ঘর ভাংচুর সহ ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
https://slotbet.online/