গকতাল বিকাল ৫ ঘটিকার সময় খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন শিরোমনি বৈশাখী মার্কেট প্রাঙ্গনে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ছাত্র জনতার রুহের মাগফিরাত কামনায় আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দের সমন্নয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, আজও কিন্তু বাংলার মাটি থেকে সড়যন্ত্রকারীরা উঠে জায়নাই। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আপনারা এগিয়ে যান। আপনারা জানেন দীর্ঘ্য ১৫/১৬ বছর শেখ হাসিনার অত্যাচারে এদেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি, কথা বলতে গেলেই আমাদেরকে বলা হয়েছে আমরা রাষ্ট্র বিরোধী। বিনা কারনে আমাদেরকে মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করেছে, করেছে স্বজন ছাড়া, খাটিয়েছে জেল। আমি জানতে চাই কি ছিলো আমাদের অপরাধ।
আজকে আমরা এখানে বুক ভরে নিশ্বাস নিচ্ছি। স্বৈরাচারের বিষমুক্ত অক্সিজেন আমরা গ্রহন করছি। নাগিনের বিষাক্ত নিশ্বাস থেকে বাংলাদেশ আজ মুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সিংহ ভাগ মানুষই আজ রাতের বেলায় শান্তিতে, স্বস্তিতে, আনন্দে, তৃপ্তিতে ঘুমাতে পারছে। কারন একটা সময় গেছে যখন বিএনপির ব বা জামায়াতের জ থাকলে বা ওদের ভাষায় জাতীর পিতার সন্তান নয় এমন বিষয় হলে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হননাই। যিনি ব্যবসা করেন তিনি ব্যবসা করতে পারেন নাই, যিনি চাকরি করেন তিনি জাতীর জনকের সন্তান নাহলে চাকুরি করতে পারেননাই। জঙ্গির নাটক সাজিয়ে অত্যাচার করা হয়েছে এদেশের হাজারো মানুষকে।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, বেগম জিয়া যখন ক্ষমতা ছাড়লো তখন তাকে বলা হয়েছিলো আপনি দেশ ছেড়ে চলে যান, কিন্তু তিনি বলেছিলো আমি আমার হাজার হাজার ছেলেদের ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারবোনা। আমার যাকিছু হবে এদেশের মাটিতেই হোক। কিন্তু আপনাদের নেত্রী কি করলো, নিজেকে বাচাতে আপনাদের সবাইকে বিপদে ফেলে পালিয়ে গেলো। পরিবর্তন মানেই কেবল মাত্র সরকারের পালা বদলনা। আমরা পৃথিবীর একজন সর্বসেরা মানুষকে আমাদের নির্বাহী প্রধান হিসাবে পেয়েছি। আর তিনি হলে ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস। যারা আমাদেরকে ব্যবসা করতে দেননি, আমাদের ব্যবসা কেড়ে নিয়েছেন, টেন্ডার ফেলতে দেননি তাদের কোনো ক্ষমা হবেনা। আমরা খুলনা শহরে দলীয় সমাবেশ করার লক্ষে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা কালে উপ-পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন, তৎকালীন সদর থানার ওসি আশরাফ হোসেন ও দারোগা মনির আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে আমাদের সমাবেশ পন্ড করে দেয় এবং আমাদেরকে নির্মম ভাবে নির্যাতন ও প্রহার করে, আমদের মাথা ফাটিয়ে দেয়, হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। তাই অনতিবিলম্বে এই সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকুরি থেকে বহিস্কার সহ তাদেরকে গ্রেফতার পূর্বক জেলে প্রেরণ ও সঠিক বিচারের দাবি জানাই। যদি তা করা না হয় তাহলে আমরা কঠিন আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
আমাদের দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিছুটা সমস্যা হয় সেটা সবাই জানেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগ এর যারা নিরীহ কর্মী যারা কোনো অপকর্মে লিপ্ত ছিলোনা তারা যাতে কোনো প্রকার ক্ষতির সম্মুক্ষিন না হয়। আগামী নির্বাচন কিন্তু আওয়ামী লীগ এর মত রাতের ভোট হবেনা। তাই ভোট পেতে হলে আমাদেরকে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। দলীয় বিভক্তি বা অর্ন্তদন্দের বিষয়ে বলেন, আমাদের ভিতরে যে অর্ন্তদন্দ ও মনোমালিন্য আছে সেটাকে আমাদের মিটিয়ে ফেলতে হবে। এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনো রাজনৈতীক দলের সাথে আক্রোশ মূলক আচরন করা যাবেনা। এখন যখন আকাশ পরিস্কার হয়ে গেছে, দিগন্ত উম্মুক্ত হয়ে গেছে, পাখিরা ডানা মেলেছে, পাখির কলরবে মুগ্ধ হচ্ছে সকাল, রাতের জোসনায় মুগ্ধ হচ্ছে রাত এই পরিবেশে আমরা নিশ্চয়ই ভালো একটি দিনের স্বপ্ন দেখি।
সর্বশেষে বেগম জিয়ার রোগ মুক্তিকামনা ও দ্রুত সুস্থতা সহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও রুহে মগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন খান জাহান আলী থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মতিউর রহমান এবং পরিচালনা করেন পলাশ মোড়ল, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খান জাহান আলী থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও ৬ নং যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কায়সেদ আলী, প্রধান বক্তা খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাবে সাধারন সম্পাদক শেখ ইকবাল হোসেন, হাদিউজ্জামান, মোল্লা সোলাইমান হোসেন, রফিকুল ইসলাম শুকুর প্রমূখ।
https://slotbet.online/