আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন: ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিখোঁজের ১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম খাতুন (১৭) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকারের পর ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।
নিহত নিঝুম খাতুন মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় নিঝুমের সন্ধান না মেলায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি দল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের মাশরিকুল রহমান জিমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিঝুমের সঙ্গে জিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৩ মার্চ ২০২৫ বেড়ানোর কথা বলে নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান জিম। সেখানে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে পুলিশকে জানান জিম।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর জিম নিঝুমকে টেনে রেললাইনের পাশের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে তার পরিহিত ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তিনি। পরে মরদেহটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে ট্রেনে করে পালিয়ে যান।
জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা তাকে সঙ্গে নিয়ে পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পারে, ১৭ মার্চ ২০২৫ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী এলাকায় একটি অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করেছিল। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় সেটি দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আর্কাইভে সংরক্ষিত অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে তদন্তকারী দল। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাশরিকুল রহমান জিম আদালতে নিঝুম হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
https://slotbet.online/