আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে জীবনযাপন করছেন ভ্রাম্যমাণ বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ। বছরের প্রায় ছয় মাস তারা নিজেদের স্থায়ী ঠিকানার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। একটি এলাকায় সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন বসবাসের পর আবার অন্য গন্তব্যে চলে যান।
সম্প্রতি এমনই একটি অস্থায়ী বসতিতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন কয়েকটি বেদে পরিবার। তাদের অনেকের মূল বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলায়। জীবিকার তাগিদে বছরের একটি বড় সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়ান তারা।
স্থানীয়ভাবে ঘুরে ঘুরে সাপের খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করেন তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের জন্য নানা ধরনের ওষুধও দিয়ে থাকেন। তবে এসব ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। তাদের দেওয়া কিছু ওষুধে সীমিত উপকার পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো কার্যকারিতা দেখা যায় না বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকারও প্রয়োজন রয়েছে।
তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এক পরিবারের সদস্য আক্ষেপ করে বলেন, এটা করার কিছু নাই, আমাদের জীবন এভাবেই চলবে। কথাটিতে ফুটে ওঠে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক অনিশ্চিত জীবনের বাস্তবতা।
এক জায়গায় দীর্ঘদিন না থাকায় শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হয় না। ফলে অনেক শিশুই শিক্ষার আলো থেকে দূরে থেকে বেড়ে উঠছে।
ভ্রাম্যমাণ এই বেদে পরিবারগুলোর জীবন শুধু একটি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার চিত্র নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি করা গেলে এসব পরিবারের জীবনমান এবং তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হতে পারে।
https://slotbet.online/