মোঃ দেলোয়ার হোসেন: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় করে অভিনব কৌশলে পাচারের সময় ১৪ লাখ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
মায়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে হ্নীলা সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার দুপুরে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় হ্নীলা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিকদল সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা একটি নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে নৌকাটিকে থামার সংকেত দেন। এ সময় নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ অব্যাহত থাকায় নৌকাটি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তল্লাশি করা হয়।
একপর্যায়ে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভাসমান কয়েকটি বস্তুর উপস্থিতি বিজিবি সদস্যদের নজরে আসে। পরে বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালানো হলে সেগুলোর ভেতর থেকে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ১৪০টি কার্টুনে সর্বমোট ১৪ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, চোরাকারবারিরা রাতের আঁধারে মাদক পাচারে বিজিবির নজরদারি এড়াতে ব্যর্থ হয়ে দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় করে ইয়াবার চালানটি পাচারের অভিনব কৌশল গ্রহণ করে। নৌকার ভেতরে ইয়াবা না রেখে দড়ির সাহায্যে বস্তাগুলো নৌকার সঙ্গে বেঁধে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়েছিল। বিজিবির প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের ফলে তাদের এ অভিনব কৌশলও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “গত দুই সপ্তাহ ধরে একটি বড় ইয়াবার চালান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়। চোরাকারবারিরা রাতের আঁধারে পাচারে সুবিধা করতে না পেরে দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় করে ইয়াবার চালানটি পাচারের চেষ্টা করে। নৌকার ভেতরে ইয়াবা না রেখে দড়ির সাহায্যে বস্তাগুলো পানিতে ভাসিয়ে রাখার অভিনব কৌশলও তারা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিজিবির তৎপরতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে তাদের সেই কৌশল সফল হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং জনবলকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।”
জব্দকৃত ইয়াবা, নৌকা ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
https://slotbet.online/