• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা ডিএসসিসির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠালেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দেবিদ্বারে বন্ধকী জুট মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, ২ ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৮ বিরলে হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাবি বিএনসিসির প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের অপর্ণা ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দেবিদ্বারে মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার….সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে একমাত্র নারী আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জুলাই আন্দোলনে বাবাকে হারানো তিন শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়

মোঃ শামীম হোসাইন: / ১২১ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

মোঃ শামীম হোসাইন: চার বছরের আব্দুল আহাদ ও তিন বছরের আব্দুর রহিম প্রায়ই মায়ের কাছে জানতে চায়, “আমাদের আব্বু কোথায়?” উত্তরে মা বলেন, “তোমাদের আব্বু আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।” তখন নিষ্পাপ দুই শিশুও সরল মনে জানায়, “আমরাও আল্লাহর কাছে যেতে চাই।”
শিশু দুটির এখনো জানা হয়নি, তাদের বাবা হাফিজুল ইসলাম (৩৫) ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে জন্ম নেয় ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক। বর্তমানে তার বয়স ১৮ মাস। আর কিছুদিন পর সেও হয়তো মায়ের কাছে একই প্রশ্ন করবে—“আমার বাবা কোথায়?”
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চর রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিকদারের ছেলে হাফিজুল ইসলাম পেশায় ছিলেন একজন রিকশাচালক। জীবিকার তাগিদে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকার পূর্ব বাড্ডার রূপনগর এলাকায় বসবাস করতেন।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে কাজে বের হন তিনি। মধ্য বাড্ডা এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, বিজিবি ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন হাফিজুল। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে বাড্ডা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ঢাকার বাড্ডার বরকতপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
হাফিজুলের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে। তার স্ত্রী মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিন সন্তানের লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ছোট খালা সালমা আক্তার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই তিনি শিশুদের দেখাশোনা করছেন।
সালমা আক্তার বলেন, “সরকারের সহযোগিতায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে বাসাভাড়া ও তিনটি শিশুকে নিয়ে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। ওদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকার যদি আরও সহায়তা করে, তাহলে অনেক উপকার হবে।”
বাবার স্নেহ থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত এই তিন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে স্বজনদের। পরিবারের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তা ও সমাজের সহযোগিতায় শিশু তিনটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/