• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

শহীদ ওসমান হাদী: নতুন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ইনসাফের মহাকাব্য

মোঃ রাজিব হোসেন / ১৩৮ Time View
Update : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বাঁকবদলে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ছিল এক অবিনাশী গর্জন। সেই গর্জনের অন্যতম সারথি, তরুণ প্রজন্মের বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক দিশারী শরিফ ওসমান বিন হাদী আজ আমাদের মাঝে নেই। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর প্রস্থান কেবল একটি জীবনের অবসান নয়; বরং এটি একটি আদর্শিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা। ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরের রাজপথে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর ওপর হওয়া কাপুরুষোচিত হামলা প্রমাণ করে, ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা এখনো এই জনপদের সার্বভৌমত্বের টুঁটি চেপে ধরতে চায়।
​এক লড়াকু জীবন ও মেধার স্ফুরণ
​১৯৯৩ সালে ঝালকাঠির নলছিটিতে জন্ম নেওয়া ওসমান হাদী ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের এক অনন্য প্রতিনিধি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই তরুণ শিক্ষক কেবল ক্লাসরুমের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি ছিলেন একাধারে সুতীক্ষ্ণ বিতার্কিক, লেখক এবং জননেতা। জুলাই অভ্যুত্থানে রামপুরার রাজপথ থেকে শুরু করে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সুপরিকল্পিত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূলে ছিল—দেশের স্বাধীনতা হবে নিরঙ্কুশ এবং জনতা হবে ক্ষমতার প্রকৃত মালিক।
​আদর্শের অগ্নিবাণী: ওসমানের কালজয়ী বক্তব্য
​ওসমান হাদী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে নিস্তেজ হয়ে পড়া তারুণ্যকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যগুলো আজ বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি কোট করে বলতেন:
​”আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন মেথর আর একজন মন্ত্রীর নাগরিক অধিকার হবে সমান। দিল্লির গোলামি কিংবা ওয়াশিংটনের প্রেসক্রিপশনে নয়, বাংলাদেশ চলবে এদেশের চাষী-মজুর আর ছাত্র-জনতার ইশারায়।”
​সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁর কণ্ঠ ছিল আপসহীন:
​”সীমান্তে আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরবে আর আমরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকব—সেই দিন শেষ। ইনকিলাব মানেই হলো অন্যায়ের শিকল ভেঙে নিজের পায়ে দাঁড়ানো।”
​২০২৬-এর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে তাঁর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ছিল প্রচলিত অর্থকেন্দ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে এক সাহসী চ্যালেঞ্জ। তিনি বলতেন, “আমি ভোট চাইতে আসিনি, আমি আপনাদের অধিকারের পাহারাদার হতে এসেছি।”
​বিচারের দাবিতে উত্তাল জনসমুদ্র: লক্ষ প্রাণের এক দাবি
​ওসমান হাদীর ওপর হামলার পর থেকে পুরো বাংলাদেশ যেন এক বিশাল আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত শোকের ছায়া নামলেও, তা দ্রুতই রূপান্তরিত হয় তীব্র প্রতিশোধের ঘেরাটোপে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলা শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, ওসমান হাদী কোনো দলীয় নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন জাতির সংহতির প্রতীক।
​আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা—বিচারের নামে কোনো প্রহসন সহ্য করা হবে না। হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে আজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে: “ওসমানের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না।” এই গণজোয়ার কেবল খুনিদের বিচার নয়, বরং ওসমানের স্বপ্নের ‘ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠার এক মহাবিপ্লব।
​জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রা: এক প্রতীকী বিদায়
​জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে ওসমান হাদীর দাফন কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক প্রতীক। নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা আর ওসমানের ইনকিলাবি আকাঙ্ক্ষা যেন একই মোহনায় এসে মিশেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যথার্থই বলেছেন, “ওসমান হাদী ছিলেন নতুন বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক অমর দেয়াল।”
লড়াই চলবে ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত
​ওসমান হাদী আজ নশ্বর দেহ ত্যাগ করে অমরত্বের মিছিলে শামিল হয়েছেন। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন এক ‘রাজনৈতিক রেনেসাঁ’। বর্তমান বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিটি লড়াইয়ে তাঁর দর্শন হবে আমাদের কম্পাস। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক দেশ, যেখানে কোনো বৈদেশিক শক্তির আধিপত্য থাকবে না এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
​শহীদ ওসমান হাদীর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমাদের একটাই অঙ্গীকার হওয়া উচিত—যে ইনসাফ ও সাম্যের জন্য তিনি রক্ত দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম থামবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/