নড়াইলের নড়াগাতী থানায় ব্যবসায়িক বিরোধ ও ব্যক্তিগত কলহকে কেন্দ্র করে মোঃ ইমদাদ আলী (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বন্যা ১৩ জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ৭–৮ জন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। নড়াগাতী থানার মামলা নং: ১২৩/২০২৫। অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং অভিযুক্তরা এখনও বিচারের মুখ এড়িয়ে চলছেন।
সোনিয়া আক্তার বন্যা জানিয়েছেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দাঙ্গাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছিল। এজাহারে উল্লেখিত অভিযুক্তরা হলেন— বাঐসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নড়াগাতী বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক চুন্নু শেখ, রাসেল শেখ, শামীম সরদার, লিপন শেখ, পারভেজ শেখ, আশিক শেখ, আতিক শেখ, জাকির শেখ, মোঃ নাইম মোল্যা, মোঃ আছাদ শেখ, হুমায়ূন শেখ, রসুল শেখ ও সোহেল শেখ।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৫:৩০ ঘটিকায় মোঃ ইমদাদ আলী পারিবারিক কাজে বাজারের দিকে রওনা হন। আনুমানিক ৬:৪৫ ঘটিকায় যোগানিয়া বাজারের আমতলা মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামিরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে মারধরের চেষ্টা চালায়। চুন্নু শেখ প্রথমে বুকের উপরের বাঁ পাশে কোপ দেন। এরপর অন্যান্য আসামী লাঠি, রামদা, হাতুড়ি, ছুরি ও গুপ্তিসহ অস্ত্র ব্যবহার করে তার পেট, বুকে, পা ও শরীরে ধারাবাহিক আঘাত চালায়।
২নং আসামী ছুরি দিয়ে পেটের বাঁ পাশে কোপ দেন। ৪নং ও ৫নং আসামী লাঠি দিয়ে বুক ও পায়ে মারাত্মক হাড়ভাঙ্গা জখম সৃষ্টি করেন। ৬নং আসামী গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং বাকি আসামিরা পেট ও বুকে লাঠি–থাপ্পড় চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ঘটনাস্থলে মোঃ শাহাজাহান শেখ, মোঃ শহিদ শেখ, মোহাম্মাদ হোসেন, মোঃ মফিজুর রহমান ও শওকত মোল্যা উপস্থিত ছিলেন। তারা চেষ্টা করেও অস্ত্রশস্ত্রধারী আসামীদের আটকাতে ব্যর্থ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমদাদ আলীকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার জিডি নং-১২০১ অনুযায়ী লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং ময়নাতদন্ত শেষে ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপরই সোনিয়া আক্তার বন্যা নড়াগাতী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, ইমদাদ আলী নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। নিহতের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা চাই অভিযুক্তরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে শাস্তি পাক।” স্থানীয়রা জানান, এই হত্যাকাণ্ড বাজারের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে এবং দ্রুত বিচার না হলে এলাকায় পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
https://slotbet.online/